Advertisement
E-Paper

গ্যারাজ দেখালেন ইন্দ্রাণী

মুম্বই পুলিশের সাদা রঙের টাটা সুমো এমএইচ ০১ এএন ১৪৬৬-এর পিছনের আসনে দুই মহিলা কনস্টেবলের মাঝে বসেছিলেন তিনি। ভাবলেশহীন মুখ। পরনে ক্রিম রঙের প্যান্ট, ছাই রঙের শার্টের উপরে ক্রিস-ক্রস করা। পায়ে স্যান্ডেল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:০১
ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়

ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়

মুম্বই পুলিশের সাদা রঙের টাটা সুমো এমএইচ ০১ এএন ১৪৬৬-এর পিছনের আসনে দুই মহিলা কনস্টেবলের মাঝে বসেছিলেন তিনি। ভাবলেশহীন মুখ। পরনে ক্রিম রঙের প্যান্ট, ছাই রঙের শার্টের উপরে ক্রিস-ক্রস করা। পায়ে স্যান্ডেল। রবিবার শেষ বেলায় খার থানা থেকে আচমকাই তাঁকে নিয়ে বেরিয়ে গেল পুলিশের টাটা সুমো। ঘড়িতে তখন দুপুর ৩টে ২০।

কালো কাপড়ের জাল দিয়ে মুখ ঢাকা ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়কে তৎক্ষণাৎ পড়ি কি মরি করে ধাওয়া করল তাবড় মিডিয়া। দেখে মনে হতে পারে, যুবরানি ডায়ানা আর তাঁর প্রেমিক দোদি আল ফায়েদের পিছু নেওয়া পাপারাৎজিরা যেন ফিরে এসেছে ১৮ বছর পরে। আরব সাগরের সি-লিঙ্ক রোড তখন যেন প্যারিসের সেই আলমা সেতুর সুড়ঙ্গ।

এমনিতে আগামী কাল, সোমবার ইন্দ্রাণী, সঞ্জীব খন্না আর শ্যাম রাইকে ফের তোলা হবে বান্দ্রা আদালতে। মনে করা হচ্ছে, তাঁদের আর পুলিশ হেফাজতে না-ও পেতে পারেন কমিশনার রাকেশ মারিয়ার সেনানীরা। সে ক্ষেত্রে জল্পনা ছিল, এ দিন সকালে রায়গড়ের পেন-এর জঙ্গলে আবার যেতে পারে পুলিশ। কী ভাবে ইন্দ্রাণীরা শিনাকে মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছিলেন, সেই ঘটনার হয়তো পুনর্নির্মাণ করা হবে তাঁদের সামনে। খার থানা থেকে রায়গড় যেতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগে। তাই দুপুর দু’টোর পরে সেই আশা স্তিমিত হয়ে যায়। কিন্তু রায়গড় নয়, পুলিশ এ দিন দুপুরে ইন্দ্রাণীকে নিয়ে আচমকা হাজির হল সটান পিটার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেই। সকাল থেকে থানার সামনে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা মিডিয়া-কুল যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই।

খার থানা থেকে সি-লিঙ্ক রোড দিয়ে গিয়ে ওরলি-র পোচখানওয়ালা রোডে পিটারের বাড়ি। পাঁচতলা বাড়ির গেটে কড়া নিরাপত্তা। পাঁচতলা জুড়ে বিশাল ফ্ল্যাটে থাকেন পিটার। কয়েক দিন আগে পর্যন্ত থাকতেন ইন্দ্রাণীও। দুপুর ৩টে ৫৫ মিনিটে ইন্দ্রাণীকে নিয়ে পুলিশ ঢুকল। পিটার সেই সময়ে বাড়িতে ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, পিটারের কালো গাড়িটা রাখা ছিল পোর্টিকো-র ভিতরে। গেটে নিরাপত্তারক্ষীকে ‘পিটার কি বাড়িতে আছেন’ গোছের যাবতীয় প্রশ্ন করে একটিমাত্র উত্তরই পাওয়া গিয়েছে, ‘‘বলতে পারব না। বলা বারণ আছে।’’

পুলিশ ইন্দ্রাণীকে নিয়ে সটান পাঁচতলায় যায়। সূত্রের খবর, ওই ফ্ল্যাটের অনেক জায়গায় অনেক নথি রয়েছে, যার হদিস একমাত্র ইন্দ্রাণীই জানেন। গ্রেফতারের পর থেকে তাঁকে নিয়ে পুলিশ সেখানে যায়নি। মনে করা হচ্ছে, সেই সব নথি হাতে পেতেই এ দিন তাঁকে নিয়ে পিটারের বাড়িতে যায় পুলিশ।

২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল শিনাকে খুন করার পরে তাঁর দেহ সেই রাতে এই বাড়িরই একতলায় একটি গ্যারাজে গাড়ির ভিতরে রাখা ছিল। সেই গাড়ি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এ দিন দেখা যায়, ইন্দ্রাণীকে নিয়ে গিয়ে সেই গ্যারাজটাও চিহ্নিত করল পুলিশ। ওই কালো ওড়নায় মুখ ঢাকা অবস্থাতেই আঙুল তুলে বন্ধ গ্যারাজটি দেখিয়ে দিলেন শিনার মা। পাশাপাশি আরও কয়েকটি গ্যারাজ ছিল। সবগুলিরই শার্টার নামানো।

প্রায় সওয়া ঘণ্টা পরে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইন্দ্রাণীকে নিয়ে যাওয়া হয় খারের কাছে কে বি ভাবা পুর হাসপাতালে। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা হয় সেখানে। দশ মিনিট পরে রবিবার রাতের মতো সান্তাক্রুজ থানাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

sunando ghosh santacruz police station sheena bora murder mystery indrani mukerjea indrani mukerjea garrage indrani mukerjea house indrani mukerjea super killer mikhail bora murder plot MostReadStories
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy