×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০২ অগস্ট ২০২১ ই-পেপার

দেশ

দেশের সবচেয়ে রক্তাক্ত ১০ জঙ্গি হানা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৫ নভেম্বর ২০১৭ ২৩:৫০
১৯৯৩ সাল থেকে বারংবার জঙ্গি কার্যকলাপে রক্তাক্ত হয়েছে দেশ। রাজধানী শহর দিল্লি, বাণিজ্যনগরী মুম্বই, গুজরাত-সহ দেশের বড় বড় শহরগুলিকে নিশানা বানিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ছিন্নভিন্ন, রক্তাক্ত হয়েছে দেশ। সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে ভারত। সন্ত্রাসের নানা ছবি ধরা পড়ল গ্যালারির পাতায়।

১৯৯৩ মুম্বই হামলা: ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ। ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বাণিজ্যনগরী মুম্বই। ১২টি পর পর বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গোটা শহর। নিহত হন ২৫৭ জন। আহত ৭১৭। ওই মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের।  ১৯৯৩ সালে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এর পর মুম্বই হামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ১৯৯৪ সালে মুম্বই স্টেশন থেকে ধরা পড়ে হামলার মূল চক্রী ইয়াকুব মেমন।
Advertisement
১৯৯৮ কোয়েম্বত্তূর হামলা:  ১৯৯৩-র হামলার রেশ তখনও টাটকা। ফের হল এক ভয়ঙ্কর হামলা। ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সময়, শনিবার দুপুর দেড়টা। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তামিলনাড়ুর সাজানো শহর কোয়েম্বত্তূর। ১১টি ভিন্ন জায়গায় ১২ বার ধারাবাহিক বিস্ফোরণে নিহত হয় ৫৮ জনের, আহত শতাধিক। হামলায় নাম জড়ায় মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল উম্মাহের।

২০০১ সংসদে জঙ্গিহানা: ডিসেম্বর ১৩, ২০০১। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সংসদের স্টিকার লাগানো গাড়িতে চেপে সংসদ ভবনে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে পাঁচ জঙ্গি। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তারক্ষীরাও। সংসদ ভবনের ভিতর তখন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হরিন পাঠক-সহ ১০০ জন নেতা-মন্ত্রী। গুলির লড়াইয়ে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি-সহ ৬ জন পুলিশ, দু’জন নিরাপত্তাকর্মী। হামলায় দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর ই তইবা।
Advertisement
২০০২ অক্ষরধাম মন্দিরে হামলা: সময় বিকেল ৫টা। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং গ্রেনেড নিয়ে অক্ষরধাম মন্দির চত্বরে গুলিবৃষ্টি শুরু করে দুই জঙ্গি। ২০০২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই হামলায় নিহত হন ৩০ জন। আহত কমপক্ষে ৮০। জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিকেশ হয় ওই দুই জঙ্গি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরে আরও ছ’জনকে গ্রেফতার করে গুজরাত পুলিশ। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় বেকসুর খালাস পায় তারা।

২০০৫ দিল্লিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ: দীপাবলির উৎসবের ঠিক দু’দিন আগে আগে দিল্লির সরোজিনী নগর, পাহাড়গঞ্জ এবং গোবিন্দপুরী কেঁপে ওঠে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে। ২০০৫ সালের ২৯ অক্টোবর ওই হামলায় নিহত হন ৬২ জন। আহত কমপক্ষে ২১০।

২০০৬ মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ: ১৯৯৩ সালের পর আর এক ভয়ানক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২০০৬ সালের ১১ জুলাই। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময় ধারাবাহিক ট্রেন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বাণিজ্যনগরী মুম্বই। হামলায় নিহত হন ২০৯ জন। আহত কমপক্ষে ৭০০। ঘটনার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তইবা এবং আল-কায়েদা।

২০০৭ সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণ: ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। হরিয়ানার পানিপথের কাছে দিওয়ানায় দিল্লি-লাহৌর সমঝোতা এক্সপ্রেসের দু’টি বগিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলায় নিহত হন ৬৮ জন যাত্রী। আহত হন অসংখ্য মানুষ। এনআইএ-র দাবি, এই হামলার পিছনে লস্কর ই তইবার হাত রয়েছে।

২৬/১১ মুম্বই হামলা: ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসের রাত। জঙ্গি কার্যকলাপের এক ভয়ঙ্কর রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হয়েছিল দেশকে। সে দিন মুম্বইয়ের তাজ হোটেলের পাশাপাশি ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট মতো আটটি জায়গায় হামলা চালায় আজমল কসাব ও তার দলবল। নিহত হন ১৬৪। আহত কমপক্ষে ১৬৮। ২১ নভেম্বর, ২০১২-তে ওই মামলায় ধৃত জঙ্গি কসাবের ফাঁসি হয়।

২০০৮ জয়পুরে বিস্ফোরণ: ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ন’টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে সে দিন কেঁপে ওঠে ‘পিঙ্ক সিটি’ জয়পুর। মুহূর্তে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল ‘হাওয়ামহল’-সহ গোটা এলাকা। ২০০৮ সালে ১৩ মে ওই ঘটনায় নিহত হন ৬৩ জন। আহত ২১৬ জনেরও বেশি।

২০০৮ অসম বিস্ফোরণ: ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর। ১৮টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে অসমের গুয়াহাটি, বরপেটা রোড, বনগাইগাঁও এবং কোকরাঝাড়। হামলার নিহত হন ৮১ জন। আহত কমপক্ষে ৪৭০। কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি ছিল, হামলার মূল চক্রী ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট (এনডিএফপি)।