E-Paper

প্রবল গরমে জ্বলছে দেশ, জলসঙ্কট-শঙ্কা গবেষণায়

সম্প্রতি বিশ্বের ১০০টি উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৮টি ভারতের— কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই দাবিকে অবশ্য পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘ভ্রান্তিকর রীতি’ বলে মনে করছেন আবহবিজ্ঞানীদের একাংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৪

—প্রতীকী চিত্র।

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত দেশের অধিকাংশ রাজ্য। মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের বান্দায় এই মরসুমের সর্বোচ্চ ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রের আকোলায় তাপমাত্রা ৪৬.৯ ডিগ্রি এবং রাজস্থানের বারমেরে ৪৬.৪ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও, শহরের কয়েকটি স্টেশনে পারদ ৪৪ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়েছে— যা এই মরসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। পরিস্থিতি বিচারে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে ‘রেড’ ও ‘অরেঞ্জ’ অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি হয়েছে কেরল ও কর্নাটকেও। তবে একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বের ১০০টি উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৮টি ভারতের— কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই দাবিকে অবশ্য পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘ভ্রান্তিকর রীতি’ বলে মনে করছেন আবহবিজ্ঞানীদের একাংশ। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার করে মূলত ভারতীয় সময় দুপুরে ‘রিয়েল-টাইম ডেটা’-র ভিত্তিতে ওই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ভৌগোলিক কারণে পশ্চিম আফ্রিকা বা পশ্চিম এশিয়ার শহরগুলির স্থানীয় সময় ভিন্ন হওয়ায় সেগুলি তখন ওই তালিকায় পিছিয়ে ছিল। পাশাপাশি, ভারতের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ঘনত্ব বেশি হওয়া এবং একই অঞ্চলের একাধিক এলাকাকে পৃথক শহর হিসেবে দেখানোর ফলেও তালিকায় এই সংখ্যাটি কৃত্রিম ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতীপ ঘূর্ণাবর্ত ও ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে তপ্ত বাতাস বায়ুমণ্ডলের নীচের দিকে আটকে থাকা এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত নেপথ্য কারণ হিসেবে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তুষারের আচ্ছাদন হ্রাস পাওয়াকেও চিহ্নিত করছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘আইসিআইএমওডি’-র সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, হিমালয়ে তুষার আচ্ছাদন দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ২৭.৮ শতাংশ কমেছে। এর ফলে সূর্যালোক প্রতিফলিত হওয়ার বদলে মাটি ও শিলা সরাসরি তাপ শুষে নিচ্ছে। কিছু গবেষণা মতে, এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য জলবায়ুগত প্রভাব হিসেবে বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরের ‘জেট স্ট্রিম’ উত্তর দিকে বিচ্যুত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট উচ্চচাপ বলয় নীচ থেকে উঠে আসা গরম বাতাসকে উপরে উঠতে বাধা দিচ্ছে। এই বরফ সঙ্কটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নদী অববাহিকার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জল-নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ওই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ দিকে, দিল্লির দ্বারকা নগর-অরণ্য সংক্রান্ত মামলায় গত ২০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মাস্টার প্ল্যান কার্যকর হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট জমিটি আইনি ভাবে ‘বনভূমি’ বা ‘ডিমড ফরেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল না। এই রায়ের ফলে সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১২০০ গাছ কাটার পরিকল্পনার পথ প্রশস্তহওয়ায় ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Climate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy