অযোধ্যায় আগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোধন। তার ঠিক পরের ৪০ দিন ধরে মণ্ডলোৎসবের পরিকল্পনা করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। ওই ৪০ দিন ধরে ভগবানকে রুপোর কলস দিয়ে অভিষেক করতে পারবেন ভক্তেরা। অনেকের মতে, রাম মন্দির উদ্বোধনের পরে প্রায় দেড় মাসব্যাপী মণ্ডলোৎসবের মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে হিন্দু আবেগকে উস্কে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
এ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই যে হিন্দু ভোটে মেরুকরণের লক্ষ্যেই লোকসভা নির্বাচনের আগে রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিন ধার্য করা হয়েছে। তার পরবর্তী সময়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকা ধর্মীয় কর্মসূচিগুলি থেকেই স্পষ্ট, রাম মন্দির ঘিরে এক ধরনের জাতীয় আবেগ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে গৈরিক শিবির। তাই কার্যত ভোট
ঘোষণা পর্যন্ত দেশ জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি, সঙ্ঘ পরিবার, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো গেরুয়া সংগঠনগুলি।
তার মধ্যে এক দিকে যেমন মণ্ডলোৎসব রয়েছে, তেমনই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাম মন্দির দর্শনে নিয়ে আসা, এলাকা ধরে ধরে প্রভাতফেরি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বক্তৃতাসভার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিজেপির ভোট চাওয়ার জন্য রাম মন্দির ছাড়া অন্য কোনও বিষয় কার্যত নেই। তাই রাম মন্দিরকেই রাজনৈতিক লাভের লক্ষ্যে যথাসম্ভব কাজে লাগানোর কৌশল নিয়ে এগোতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির আশা, দীর্ঘমেয়াদী এ ধরনের কর্মসূচির কারণে দেশ জুড়ে যে হিন্দুত্বের হাওয়া উঠবে, সেই হওয়ায় ভর করে ভোট বৈতরণী পার হওয়া যাবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রের খবর, ৪০ দিনের যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের গোড়ায় একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হবে। যার নাম ঠিক হয়েছে ‘শ্রীরাম সেবা’। যার মাধ্যমে অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন ভক্তেরা। তবে যে সকল ব্যক্তি সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন (গো-সেবা, দুঃস্থ শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, অন্নবিতরণ, বয়স্কদের সেবা) তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। আবেদনকারী ব্যক্তিকে সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন শংসাপত্র দেখাতে হবে।
সূত্রের মতে মণ্ডলোৎসবের শেষ পাঁচ দিনে, প্রতি দিন হাজারটি করে রুপোর কলস দিয়ে রামের অভিষেক করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। দেশবাসীর কাছে মন্দির কর্তৃপক্ষের আবেদন, উদ্বোধনের দিন যেন ঘরে ঘরে হনুমান চালিশা, রামচরিতমানস পাঠ করা হয়। মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠার সময় যাতে সকলে টেলিভিশনে তা দেখেন এবং ওই দিন সূর্যাস্তের পরে বাড়ির সামনে প্রদীপ জ্বালানো হয় ও শাঁখ বাজানো হয়।
রাম মন্দির উদ্বোধনের পরে তাতে নিত্যদিনের পুজোর জন্য পূজারি নিয়োগও সেরে ফেলেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি রাম মন্দিরে পূজারি পদে আবেদনের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তাতে প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়ে। যা থেকে প্রথমে দু’শো জন ও তার পরে তাঁদের মধ্যে থেকে ২০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। যাঁদের আগামী ছ’মাস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরে মন্দিরের নিত্যসেবা ও পুজোর কাজে নিয়োগ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)