×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

ফুটেজ তুলতে সঙ্গে ক্যামেরাও, মাথা কাটতেই এসেছিল ওরা

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি ২৫ জুন ২০১৭ ০৩:৩৬
প্রমাণ: নিহত পাক কম্যান্ডোর কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রের মধ্যে মিলেছে সেই বিশেষ ছুরি এবং তলোয়ার।

প্রমাণ: নিহত পাক কম্যান্ডোর কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রের মধ্যে মিলেছে সেই বিশেষ ছুরি এবং তলোয়ার।

ভারতীয় জওয়ানদের মুণ্ড আগেও কেটে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি সেনার ব্যাট বাহিনী। গত বৃহস্পতিবারও যে তারা সেই উদ্দেশেই এসেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ভারতীয় সেনার। শুধু তাই নয়, এ বার সেই হামলা রেকর্ড করার জন্য ক্যামেরাও নিয়ে এসেছিল তারা।

বৃহস্পতিবার পুঞ্চ সেক্টরে চাকন-দা-বাগের কাছে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকে জনা ছয়েক পাক হানাদার। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। খতম হয় দুই পাক হানাদারও। বাকিরা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যায়। ভারতীয় বাহিনীকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করে তাদের পালাতে সাহায্য করে পাক সেনা।

প্রথম থেকেই ভারতীয় সেনার দাবি ছিল, এই দলটিতে সরাসরি পাক সেনার কম্যান্ডোরাই ছিলেন। ব্যাট বাহিনীর দলে অনেক সময়েই জঙ্গিদের সামিল করা হয়। কিন্তু সেনা অফিসাররা জানান, জঙ্গিরা সাধারণত ভারতীয় বাহিনীর উপরে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু এই দলটি পুরোদস্তুর লড়াই চালিয়েছে। পরে পালানোর সময়ে আহত সঙ্গীদের ফেরত নিয়ে গিয়েছে।
উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে নিহতদের দেহও। এটা জঙ্গিরা সাধারণত করে না। এ থেকেই বোঝা যায়, এই পাক হানাদারদের প্রশিক্ষণ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের চেয়ে অনেকটাই উন্নত।

Advertisement

পরে এক হানাদারের দেহ উদ্ধার করে ভারতীয় সেনা। তার পরেই সেনা অফিসাররা নিশ্চিত হন, বৃহস্পতিবার পাক কম্যান্ডোরাই হামলা চালিয়েছিলেন। ওই কম্যান্ডোর কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ছুরি ও তরোয়াল রয়েছে। সেনা অফিসারদের দাবি, ভারতীয় জওয়ানদের মুণ্ড কাটার জন্যই ওই অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন পাক কম্যান্ডোরা। সেনার দাবি, ওই কম্যান্ডোর হেলমেটে একটি ক্যামেরাও লাগানো ছিল। তা দিয়ে পুরো ঘটনার ফুটেজ তোলার ছক কষেছিল ব্যাট বাহিনী। ওই ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজ পরীক্ষা করছেন সেনা গোয়েন্দারা। তাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি শিবিরের ছবিও পাওয়া যেতে পারে বলে মত সেনা সূত্রের।

বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহত জওয়ান সন্দীপ যাদবের আজ শেষকৃত্য হয় মহারাষ্ট্রের কালগাঁওয়ের কাছে তাঁর গ্রামে। এ দিনই ছিল তাঁর ছেলে শিবমের প্রথম জন্মদিন। যে দিন উৎসবে মুখর হওয়ার কথা ছিল সন্দীপের বাড়ি, সে দিনই পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাহ হলো তাঁর দেহ। এলাকার হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও ছিলেন মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার হরিভাউ বাগাড়ে ও কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল সাত্তার।



Tags:

Advertisement