আটপৌরে সাজেই বাজিমাত, দূরদর্শনের প্রথম সংবাদপাঠিকা আজ বিস্মৃত
সিমলা থেকে প্রতিমা কাজের প্রয়োজনে পাড়ি দেন দিল্লি। রাজধানী-ই ছিল তাঁর পরবর্তী জীবনের কর্মক্ষেত্র।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা যত প্রসারিত হয়েছে, তত গুরুত্ব বেড়েছে সংবাদপাঠক ও পাঠিকাদের। এখন তো আর নিছক পাঠক বা পাঠিকা নন। তাঁরা ‘নিউজ অ্যাঙ্কর’। আধুনিকতার আবহে আমারা ভুলেই গিয়েছি প্রতিমা পুরীকে। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম সংবাদপাঠিকা।
এক গোর্খা পরিবারে তাঁর জন্ম সিমলা শহরে। জন্মগত নাম ছিল বিদ্যা রাওয়ত। পরে তাঁর নাম হয় প্রতিমা।
তিনি প্রথমে নিজের শহরে কর্মজীবন শুরু করেন অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর ঘোষিকা হিসেবে। তাঁর কণ্ঠ এবং সঞ্চালনা জনপ্রিয় হয়েছিল বেতারে।
১৯৫৯ সালে ভারতে প্রথম পথ চলা শুরু করে দিল্লি দূরদর্শন। তখন সেটি অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর অংশ ছিল। প্রথম সংবাদপাঠিকা তথা ঘোষিকা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় প্রতিমাকে।
সিমলা থেকে প্রতিমা কাজের প্রয়োজনে পাড়ি দেন দিল্লি। রাজধানী-ই ছিল তাঁর পরবর্তী জীবনের কর্মক্ষেত্র।
আরও পড়ুন:
১৯৫৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ছোট ট্রান্সমিটার এবং অস্থায়ী স্টুডিয়োর সাহায্যে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু হয় দিল্লি দূরদর্শন বা ডিডি-র।
অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে দূরদর্শন নিয়মিত সম্প্রচার শুরু করেছিল ১৯৬৫ সালে। সে সময় পাঁচ মিনিটের বুলেটিন পাঠ করতেন প্রতিমা।
১৯৭৫ সালে দিল্লি ছাড়া আরও ছ’টি শহরে শুরু হয় দূরদর্শনের সম্প্রচার। তবে তখন টেলিভিশন দেখতেন মুষ্টিমেয় দর্শক। আমজনতার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল বেতার।
স্বল্প পরিসরেও দর্শকমনে ছাপ ফেলতে পেরেছিলেন প্রতিমা। তাঁর শ্রুতিমধুর কণ্ঠ এবং ব্যক্তিত্বের জাদুতে মুগ্ধ ছিলেন দর্শকরা।
আরও পড়ুন:
একরঙা সিল্কের সঙ্গে মাঝখানে সিঁথি করে খোঁপা এবং কপালে বড় টিপ, আটপৌরে এই স্টাইল স্টেটমেন্টেই প্রতিমা ছিলেন অনন্যা।
সঞ্চালক হিসেবে বহু বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন প্রতিমা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন।
ষাটের দশকে সংবাদপাঠক বা পাঠিকা হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হত তুলনামূলক ভাবে সিনিয়রদের। মনে করা হত, পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি সংবাদের গুরুত্ব বজায় রাখবে।
১৮৬৭ সালে দূরদর্শনে যোগ দেন সলমা সুলতান। ক্রমে তিনি-ই হয়ে ওঠেন প্রধান সংবাদপাঠিকা। প্রতিমা পুরীর জায়গায় সলমা-ই ছিলেন দূরদর্শনের মুখ।
সে সময় দূরদর্শনের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন এ বার সংবাদ পাঠক পাঠিকাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রতিমা পুরীকে।
দূরদর্শনের প্রথম সঞ্চালিকা দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের ঘোষক ও ঘোষিকাদের। ২০০৭ সালের ২৯ জুন প্রয়াত হন নিজের সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা, প্রতিমা পুরী।