Advertisement
E-Paper

তিন বারের চেষ্টায় কেতনকে খুন বাগদত্তা সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতনের! পুণে-কাণ্ডের দুই ধৃত এক সপ্তাহের পুলিশি হেফাজতে

পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতনবিশাল অগ্রবালের খুনের ঘটনায় ধৃত বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরিকে এক সপ্তাহের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ২১:৫৮
(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল এবং সিয়া গয়াল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল এবং সিয়া গয়াল (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতনবিশাল অগ্রবালের খুনের ঘটনায় ধৃত বাগ্দ‌ত্তা সিয়া গয়ালকে ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত। এই মামলায় গ্রেফতার সিয়ার সহকর্মী তথা প্রেমিক চেতন চৌধরিকেও মঙ্গলবার এক সপ্তাহের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুণে দায়রা আদালতের বিচারক। পুণে (গ্রামীণ) পুলিশের সুপার সন্দীপ সিংহ গিল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ২২ বছরের চেতন এবং ২০ বছরের সিয়ার বিরুদ্ধে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ লোপের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীদের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, সহকর্মী চেতনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার। তার মধ্যেই কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌দান হয়ে গিয়েছিল। সিয়া চাইছিলেন না কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হোক। অভিযোগ, কেতনকে সরাতে চেতনকে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে সিয়া। ১৮ জুন যখন কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে হাজির হয়েছিলেন সিয়া, সেখানে আগে থেকেই ছিলেন চেতন। কেতন এবং সিয়া ট্রেক করে উঠছিলেন। তাঁদের অনুসরণ করছিলেন চেতন। তাঁর উপস্থিতির কথা টের পাননি তিনি। কিন্তু সিয়া জানতেন, চেতন তাঁদের অনুসরণ করছেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা দু’জনে পাহাড়ের ধারে যান। ঠিক সেই সময়ে সেখানে চেতন হাজির হন। অভিযোগ, তার পর কেতনকে ধাক্কা মেরে পাহাড় থেকে প্রায় ৪৫০ ফুট গভীর ফেলে দেন।

আগামী নভেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল কেতন-সিয়ার। রাজস্থানের উদয়পুরে ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি মহল ভাড়া করেছিল কেতনের পরিবার। জুনের প্রথম সপ্তাহেই প্রি ওয়েডিং ফোটোশুটে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল কেতন-সিয়ার। তাঁরা দু’জনে মুম্বইয়ে যান। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেতন। ফলে বালি যাওয়া ভেস্তে গিয়েছিল। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, কেতন তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেননি। বালি যাওয়া যাতে ভেস্তে যায়, সে কারণেই কেতনের পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলেছিলেন সিয়া। উদ্দেশ্য ছিল লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুন করা। চেতন এবং সিয়ার পরিবারের মধ্যেও যোগাযোগ রয়েছে। দুই পরিবারই শুকনো ফলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

প্রভাবশালী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিশাল অগ্রবালের পুত্র ২৬ বছরের কেতন পারিবারিক সংস্থার অন্যতম পরিচালক ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসাবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে, যা এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের বাগদত্তা ২০ বছরের সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সহকর্মী চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সিয়ার। এর পরেই দু’জনকে দফায় দফায় আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধ এবং তার যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এর আগে অন্তত দু’বার কেতনকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন সিয়া এবং চেতন। কিছু দিন আগেও এক বার কেতনকে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সেই সময়েও কেতনকে খুনের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন। তার পর ১৮ জুন কেতনের জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুরা মিলে আবার লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মাফিক আগে থেকেই সেখানে হাজির ছিলেন ঘাতক চেতন। যদিও মঙ্গলবার পুণে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চেতনের আইনজীবী রাম সহানে বলেন, ‘‘আমার মক্কেল নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।’’ নিহত কেতনের পিতা বিশাল খুনের জন্য সিয়াকে দায়ী করে বলেন, ‘‘ও আমার ছেলেকে বিয়ে করতে চাইছিল না। সে কারণেই খুন করেছে। চার জনের বালিতে যাওয়ার কথা ছিল। শুধু কেতনের পাসপোর্ট-ভিসা চুরি হল। পুরোটাই ষড়যন্ত্র।’’

Pune Pune Crime Crime Murder

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy