E-Paper

অনাস্থা বিতর্কেও মূল নিশানা সেই রাহুলই

অনাস্থা নিয়ে আলোচনায় বিরোধীরা এক দিকে ঘুরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা সরকারকে আক্রমণের নিশানা করেন। অন্য দিকে, শাসক শিবিরের আক্রমণের লক্ষ্যে ছিলেন রাহুল গান্ধী তথা গান্ধী পরিবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৪
রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।

শাসক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হল আজ। আগামিকাল ওই বিতর্কে সরকারের পক্ষে জবাব দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ইতিমধ্যেই আজ বিতর্কের মাঝে অংশগ্রহণ করে বলেন, বর্তমান বিরোধীদের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধী তিনি এর আগে দেখেননি।

আজ অনাস্থা নিয়ে আলোচনায় বিরোধীরা এক দিকে ঘুরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা সরকারকে আক্রমণের নিশানা করেন। অন্য দিকে, শাসক শিবিরের আক্রমণের লক্ষ্যে ছিলেন রাহুল গান্ধী তথা গান্ধী পরিবার। দিনের শেষে অবশ্য প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার প্রশংসা শোনা যায় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মুখে। নিজের বক্তব্যের একেবারে শেষে কিরেন বিরোধী বেঞ্চে বসে থাকা প্রিয়ঙ্কার উদ্দেশে বলেন, “প্রিয়ঙ্কা বিরোধী দলনেত্রী হলে কংগ্রেসের ফলাফল ভাল হত। রাহুল বিরোধী দলনেতা হলেও সংসদে অনুপস্থিত থাকেন। প্রিয়ঙ্কা তো সংসদে থাকেন। আলোচনায় অংশ নেন। আবার হেসে কথাও বলেন।” রিজিজুর ওই প্রশংসা ভাই-বোনের মধ্যে বিবাদকে উস্কে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন অনেকেই। যদিও পরে প্রিয়ঙ্কা নিজের বক্তব্যে বলেন, “আজকের অনাস্থা আলোচনায় জওহরলাল নেহরুর প্রশংসা করলেন সংসদীয় মন্ত্রী। এমনিতে তো তাঁকে সর্বক্ষণ সমালোচনা করা হয়। সেটা শুনেই আমি হাসছিলাম।” রাহুল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “গত বারো বছরে যে এক জন ব্যক্তি সরকারের সামনে মাথা নত করেননি, তিনি হলেন বিরোধী দলনেতা। তাই এত ভয়।”

আজ বিতর্কের গোড়ায় স্পিকার ওম বিড়লার অনুপস্থিতিতে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়ে এক চোট বিতর্ক হয়। সেই সময়ে স্পিকারের আসনে থাকা জগদম্বিকা পালের সভা পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন একাধিক বিরোধী সাংসদ। যদিও তা খারিজ হয়ে যায়। এর পরে অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থনে অন্তত পঞ্চাশ জন বিরোধী সাংসদকে উঠে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন জগদম্বিকা। বিরোধীদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যা থাকায় এ নিয়ে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেন তিনি। কী কারণে অনাস্থা আনা হয়েছে তার ব্যাখ্যায় কংগ্রেসের গৌরব গগৈ বলেন, “রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ধন্যবাদজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে কুড়ি বার বলতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত।” এর পরেই রাহুলকে কী বিষয়ে বলতে আটকানো হয়েছিল, তা নিয়ে সরব হন গগৈ। ভারত-চিন সংঘাত নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নরবণের বইয়ের উল্লেখ থেকে এপস্টিন মামলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম আসা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। আমেরিকায় বিচারবিভাগ সরকার-ঘনিষ্ঠ শিল্পপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করায় আপস করে প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য চুক্তি মেনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাই নিয়ে প্রবল আপত্তি জানায় শাসক শিবির।

অন্য দিকে, শাসক শিবিরের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাহুল গান্ধী। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “রাহুলের সমস্যা হল তিনি নিজেকে সকলের ঊর্ধ্বে ভাবেন। আমি এমন কোনও বিরোধী নেতা দেখিনি, যিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চোখ মারেন।” পাশাপাশি, অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত আলোচনা কে পরিচালনা করবেন, সেটা যে ভাবে কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, তারও সমালোচনা করেন কিরেণ। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় যে তাঁদের দল নেই, তা কংগ্রেসের নেতারা ভুলে গিয়েছেন। তাই কে সভা পরিচালনা করবে সেই ক্ষমতা আমাদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার আজ চেষ্টায় ছিল কংগ্রেস।” রাহুলকে আক্রমণ শানিয়েছেন শিবসেনা (শিন্দে) সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্দে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনায় রাহুলের অনুপস্থিতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাহুল লিডার অব ভ্যাকেশন (ছুটি নেওয়ার রাজা)। লিডার অব অপোজ়িশন (বিরোধী দলনেতা) নন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Om Birla Lok Sabha Rahul Gandhi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy