E-Paper

পদ বিলোপে কি কর্মী সঙ্কোচনের মুখে রেল

ম্যান পাওয়ার প্ল্যানিং (এমপিপি)-এর ডিরেক্টর অমিত সিংহ মেহরা সব জ়োনকে চিঠিতে লিখেছেন, চলতি অর্থবর্ষে রেল দু’শতাংশ পদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দেশের সব ক’টি রেলওয়ে জ়োন থেকে দু’শতাংশ পদ বিলোপের সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল। গত শুক্রবারের ওই নির্দেশিকার ফলে সব মিলিয়ে ২৯,৬০৮ জনের চাকরি যেতে বসেছে বলে আজ সরব হয়েছে শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে উত্তর রেল। ওই জ়োনের প্রায় ৩,৩০৩ চাকরি প্রভাবিত হতে চলেছে। পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেলে যথাক্রমে ২,৫৪৪ ও ১,৯৬৭টি পদের বিলুপ্তি ঘটতে চলেছে। কলকাতা মেট্রোর ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১০২। যদিও রেলের দাবি, যুক্তিসঙ্গত কারণে সময়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া পদগুলিতে কর্মরতদের পুনর্বণ্টন করা হয়ে থাকে।

গত ২৪ এপ্রিল রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে রেলের সমস্ত জ়োন ও উৎপাদন ইউনিটগুলিকে চিঠি দিয়ে নিজেদের জ়োন থেকে দু’শতাংশ পদ বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ম্যান পাওয়ার প্ল্যানিং (এমপিপি)-এর ডিরেক্টর অমিত সিংহ মেহরা সব জ়োনকে চিঠিতে লিখেছেন, চলতি অর্থবর্ষে রেল দু’শতাংশ পদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্রতিটি জ়োনে যে কর্মিসম্পদ রয়েছে তার মধ্যে দু’শতাংশ কর্মীকে হয় পুনর্বণ্টন, না হলে ছাঁটাই করতে হবে। একবারে বছরের শেষে ওই ছাঁটাই বা পুনর্বণ্টন করার চেয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর তা করার নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। সব মিলিয়ে রেলের যে ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার কর্মী রয়েছেন, তার মধ্যে ২৯,৬০৮ জন কর্মী প্রভাবিত হতে চলেছেন।

ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সরব হয়েছে শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি। সংগঠনের বক্তব্য, মোদী সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে দু’কোটি চাকরি। সরকার সেটা তো দেয়ইনি, উপরন্তু দায় কমাতে পাকা চাকরিও কেড়ে নিতে চাইছে। নির্দেশিকায় ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার কর্মীর কথা বলা হলেও বাস্তবে কেবল ১১ লক্ষ কর্মী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ এআইটিইউসির। নিত্যদিন যেখানে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে কর্মী সঙ্কোচনের ফলে নিরাপত্তায় গাফিলতি তৈরি হবে বলে সরব হয়েছে তারা। সংগঠনের বক্তব্য, চালকের অভাবে কর্মরত চালকদের বারো ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হচ্ছে, ট্র্যাক নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকেন তাঁদের দিয়ে অন্য কাজ করানো হচ্ছে। সংগঠনের বক্তব্য, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে পরিষেবা যেমন ব্যাহত হবে, যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। রেলের পাল্টা যুক্তি, কর্মিসম্পদের পুনর্বিন্যাস একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া বহু পদ এখনও রয়ে গিয়েছে। সেই সব পদে কর্মরতদের পরিচালন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত কাজে স্থানান্তর এবং কর্মিসম্পদের আরও ভাল ভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত জনবলে হ্রাস করা হয়নি বলেও দাবি করেছে রেল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Railway Employment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy