Advertisement
E-Paper

চপার-ভূতের তাড়ায় সনিয়া পাল্টা মারমুখী

বফর্সের ভূত তাড়া করেছে দীর্ঘদিন। এখন আবার তেমনই আর এক ভূত ঘাড়ের উপরে! যা তাড়াতে প্রথম থেকেই মারমুখি মেজাজে মুখ খুলেছেন সনিয়া গাঁধী। যদিও ভূত তাতে নামবে কি না, কংগ্রেস নেতারাই তা নিয়ে সন্দেহে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:৩৫

বফর্সের ভূত তাড়া করেছে দীর্ঘদিন। এখন আবার তেমনই আর এক ভূত ঘাড়ের উপরে! যা তাড়াতে প্রথম থেকেই মারমুখি মেজাজে মুখ খুলেছেন সনিয়া গাঁধী। যদিও ভূত তাতে নামবে কি না, কংগ্রেস নেতারাই তা নিয়ে সন্দেহে।

ইউপিএ জমানার ভিভিআইপি হেলিকপ্টার দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে সনিয়ার। বিজেপি সরাসরি নিশানা করেছে তাঁকে। দেরি না করে কংগ্রেস সভানেত্রী আজ নিজেই বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কী প্রমাণ রয়েছে? এটা ওদের চরিত্র হননের কৌশল। আমি কাউকে ভয় পাই না। আমাদের কিছু লুকোনোর নেই। ওরা আমার নাম তুলুক, ভয় পাই না।’’

তবে কংগ্রেসের নেতারা এটা বুঝতে পারছেন, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ুর নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি নতুন অস্ত্র পেয়েছে। চপার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ভোট-বাজারে কংগ্রেসকে ধাক্কা দিতে কসুর করবে না বিজেপি। বফর্স-দুর্নীতির অভিযোগ কী ভাবে এক সময় রাজীব গাঁধীর ভোট-ভাগ্য বদলে দিয়েছিল, কংগ্রেসের পক্ষে তা ভোলা সম্ভব নয়।

ইউপিএ আমলে ভিভিআইপি-দের জন্য ইতালির ফিনমেকানিকা গোষ্ঠীর অগুস্তাওয়েস্টল্যান্ড সংস্থা থেকে ১২টি হেলিকপ্টারের বরাত দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। কিন্তু নতুন করে বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে ইতালির আদালতের এক সাম্প্রতিক রায়ে। ৩,৬০০ কোটি টাকার ওই বরাত পাওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়ার অপরাধে সংস্থার দুই কর্তার শাস্তি ঘোষণা করেছে মিলানের আদালত। শাস্তির নির্দেশে ‘সরকারের পিছনে আসল ব্যক্তি’ হিসেবে চার বার নাম রয়েছে ‘সিগনোরা গাঁধী’ বা ‘ম্যাডাম গাঁধী’-র। বরাত পেতে যাঁরা দালালের কাজ করেছিলেন, তাঁদের ডায়েরিতে এই ভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে সনিয়াকে। এর কোনও ব্যাখ্যা নেই কংগ্রেসের ঝুলিতে। যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ঘুষ নিয়েছেন, সেই তালিকায় একটি নাম ‘এ পি’। মনে করা হচ্ছে, এটা আসলে সনিয়ার রাজনৈতিক সচিব আহমেদ পটেল। এই ভাবে গাঁধী পরিবারের নাম জড়িয়ে যাওয়াতেই ‘দ্বিতীয় বফর্স’-এর ভয় চেপে বসেছে কংগ্রেসে। সনিয়াকে আড়াল করার কৌশল খুঁজছেন দলের নেতারা। বলছেন, সনিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই।

বিজেপি কিন্তু চপার-দুর্নীতিকে ‘দ্বিতীয় বফর্স’ করে তোলার চেষ্টায় কোনও খামতি রাখছে না। রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েই বিজেপির সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আজ সংসদে সনিয়ার নাম তুলে আনেন। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সনিয়া-রাহুলকে বিব্রত করার পর অগুস্তাওয়েস্টল্যান্ড নিয়েও সরব হন। কংগ্রেসের নেতারা রে রে করে তেড়ে গিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করেন। রেকর্ড থেকে সনিয়ার নামও মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু বিজেপি সংসদে তাঁর নাম তোলায় পরে মুখ খুলতে হয় সনিয়াকেও। বিজেপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ‘‘ওরা তদন্ত করছে না কেন? এ সব অভিযোগ মিথ্যে, ভিত্তিহীন। ওরা দু’বছর ধরে সরকারে রয়েছে। তদন্ত শেষ করুক। সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।’’ আহমেদ পটেলও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, ‘‘এক কণা সত্যি থাকলে আমাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।’’ চপার-কাণ্ডের সঙ্গে কোনও রকম সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন ইউপিএ জমানার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণনও। ওই আমলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি, গুলাম নবি আজাদরা যুক্তি দিয়েছেন, ইউপিএ সরকারই সিবিআই তদন্ত শুরু করেছিল। মোদী সরকার কেন তদন্তে ঢিলে দিচ্ছে? কেনই বা কালো তালিকাভুক্ত অগুস্তাওয়েস্টল্যান্ডকে ফের প্রতিরক্ষা বরাত দেওয়া হচ্ছে?

কংগ্রেসের এ-ও অভিযোগ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চুক্তি করেছেন। তা হল, মোদী সরকার ভারতীয় মৎস্যজীবী খুনে অভিযুক্ত ইতালির সেনাদের ছেড়ে দেবে, ইতালি বিনিময়ে গাঁধী পরিবারের বিরুদ্ধে তথ্য দেবে। অরুণ জেটলির দাবি, এমন চুক্তি হয়নি। উল্টে গাঁধী পরিবারকে অস্বস্তিতে ফেলতে জেটলি বলেছেন, ‘‘যারা ঘুষ দিয়েছিল, তারা শাস্তি পেয়েছে। ঘুষখোরদের চিহ্নিত করতে হবে। সিবিআই তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে।’’

Sonia gandhi helicopter congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy