এক বার বা দু’বার নয়। ১২ ঘণ্টার মধ্যে ন’বার কাঁপল গুজরাতের রাজকোট। মৃদু কম্পন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই কম্পনের জেরে আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন রাজকোটবাসী। অনেক এলাকায় বাড়ি খালি করানো হয়।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কম্পন হয়। শেষ কম্পন হয় শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে। তার মাঝে আরও সাত বার কম্পন হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর। কম্পনের উৎসস্থল ছিল উপলেটার উত্তর-পশ্চিমে ৩০ কিলোমিটার দূরে। উপলেটা মূলত কচ্ছ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। আর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যে পড়ে কচ্ছ। তবে একসঙ্গে এত বার কম্পন আগে কখনও অনুভূত হয়েছে কি না, মনে করতে পারছেন না রাজকোটবাসী। ফলে বড় কোনও বিপদের আশঙ্কায় সিঁটিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ন’বারে মধ্যে সর্বোচ্চ কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৮। সবচেয়ে কম কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৯। কম্পনের মাত্রা যদি ৩ থেকে ৩.৯-এর মধ্যে থাকে, সেটিকে মৃদু কম্পন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যদি কম্পনমাত্রা ৩-এর নীচে হয়, তা হলে সেটিকে অতি মৃদু হিসাবে ধরা হয়। গান্ধীনগরের ইনস্টিটিউট অফ সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ৪-এর নীচে থাকে, তা হলে সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁরা এটাও বলছেন যে, এত কম সময়ের মধ্যে কেন এত বার কাঁপল রাজকোট, সেটাই উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যুতিরেখার উপরেও পড়ছে না রাজকোট। তা হলে এই কম্পন কেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বর্ষার মরসুমের পর এই ধরনের মৃদু কম্পন খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বার কম্পনের বিষয়টিই ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের।