• Russian Revolution
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সবাইকে মান দিলেই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত লোকতন্ত্রে পোক্ত হয়

সোভিয়েতের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিগড়ে সোভিয়েত রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল, সেই কাঠামো ৭৪ বছর স্থায়ীও ছিল। লিখছেন গৌতম ভদ্র

Russian Revolution
পেত্রগ্রাদে বিপ্লবীদের জমায়েত। ছবি: গেটি ইমেজেস।
  • Russian Revolution

শব্দটা সোভিয়েত বা Sovet, আক্ষরিক অর্থ কাউন্সিল বা উপদেষ্টা পরিষদ। জার দ্বিতীয় নিকোলাসও ১৯০৫ সালে প্রথমে তাই ভেবেছিলেন। বলশেভিক বা মেনশেভিক, কোনও নেতাই ঘুণাক্ষরেও ঠাহর করতে পারেননি যে বস্তুক্রমে ও কালক্রমে সোভিয়েতই একদিন অক্টোবর বিপ্লবের দেশের নামচিহ্ন হবে, ভবিষ্যতের সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, সোভিয়েত রাশিয়া। ১৯০৫-এ যখন নেত্রগাদে ছাপাখানার কর্মচারীরা আন্দোলন করছিল, জারের এক মন্ত্রীই তাদের দাবিদাওয়া দরবারে সুষ্ঠু ভাবে পেশ করার জন্য প্রতিনিধি পর্ষদ বানাতে বলেন। সেই কথানুসারেই ৭৫টি মুদ্রণ সংস্থার শ্রমিক তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে প্রেস সোভিয়েত তৈরি করে। অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকরাও ওই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে। উদ্যোগটিতে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, কাদানফের মতো বলশেভিকরা সোভিয়েতকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। স্টকহলম থেকে একটি চিঠিতে সহকর্মীদের লেনিন সোভিয়েতের কার্যকলাপকে বিচার-বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছিলেন। কাগজে ওই চিঠি ছাপেনি, ওই বিশেষ চিঠিটা ছাপতে ছাপতে ১৯৪০ সাল এসে যায়। নেত্রগ্রাদের শ্রমিকরা অকুতোভয়, ১৩ অক্টোবর শ্রমিকরা সোভিয়েতে সম্মেলন ডাকে। তাঁদের লক্ষ্য দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের মতো দাবিদাওয়ার মাধ্যমে জারের সংস্কারের ম্যানিফেস্টোকে বাস্তবে কার্যকর করা। ১৫ অক্টোবর সভাপতি ট্রটস্কি সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। শ্রমিকরা সাধারণ ধর্মঘট করতে প্রস্তুত হয়, রাজকর বয়কটের ডাক দেওয়া হয়, কেউ কেউ অভ্যুত্থানেরও স্বপ্ন দেখে। বেগতিক দেখে ৩ ডিসেম্বর রাজদ্রোহের অভিযোগে জারের পুলিশ ও সৈন্য সোভিয়েত সম্মেলন ভেঙে দেয়। নেতারা বিনা বাধায় গ্রেফতার হন। ক্ষুধিত রাষ্ট্রের মুখে অপ্রস্তুত শ্রমিকদের উত্তেজিত করে এগিয়ে দিতে কোনও নেতাই রাজি না।

আরও পড়ুন: 

রুশ বিপ্লব ও গণতান্ত্রিক বিকল্পের তত্ত্ব

নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষের বিষাদ

অলঙ্করণ: সুমন চৌধুরী।

মাত্র পঞ্চাশ দিনের জীবন, খুব একটা কিছু করাও যায়নি। কিন্তু এক দশকের বেশি সময় কাটলেও নেত্রগাদে শ্রমিকদের স্মৃতিতে সোভিয়েত বলে সংগঠনটি সজীব ছিল। ১৯১৭-র গোড়াতে কোনও মেনশেভিক বা বলশেভিক দলের রচনায় সোভিয়েতের ধারণা বড় একটা ফিরে আসেনি। ফেব্রুয়ারিতে শ্রমিকরা স্বউদ্যোগেই শিল্প সংস্থায় সোভিয়েত তৈরি করে। মার্চ-এপ্রিলে সোভিয়েত গড়ে ওঠে, কৃষক ও শ্রমিকরাও পিছিয়ে থাকে না। জারতন্ত্রের অবসানকল্পে রুটি, শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে এই সব সোভিয়েত নিজস্ব প্রতিনিধিদের সভায় নানা ঘোষণাপত্র রচনা করে। এই ঘোষণাপত্রগুলি সোভিয়েত কংগ্রেসে ও বিশেষত অন্তর্বর্তী কোয়ালিশন সরকারের কাছে পাঠানো হত। প্রত্যাশা যে কোয়ালিশন সরকার ওই ঘোষণার দাবিগুলি মানবে। মানা হল কি না সেই দেখভাল সোভিয়েতরা তাদের এলাকায় করবে। জারতন্ত্রের অবসানে গণতন্ত্র কী রকম হবে, রুটি-কাপড়া ও মকান-এর সমস্যা মেটার পর স্বাধীনতার স্বরপই বা কী হবে, তাই নিয়ে সমাজ ও সভ্যতার এত দিনের ভারবাহকরা অঞ্চলে অঞ্চলে গজিয়ে ওঠা সোভিয়েত বা কাউন্সিলের মাধ্যমে কথা বলতে শুরু করল। ১৯০৫-এর অঙ্কুর ১৯১৭-তে ফলবান বৃক্ষে রূপান্তরিত হল। ফলটি গণতন্ত্র, নিজেদের কথা নিজেদের ভাষায় জানবার ক্ষমতা ও অধিকার। এপ্রিলেই লেনিন জানিয়েছিলেন যে রাশিয়ার গণতান্ত্রিক আবহাওয়া ইউরোপে তুলনাবিহীন। খেটে খাওয়া মানুষদের লেখা এই ঘোষণাপত্রগুলির ভাষাতেই তাঁর বৈপ্লবিক জিকির, ‘সব ক্ষমতা সোভিয়েতদের দিতে হবে’ (All power to the Soviets) নানা অনুষঙ্গে ভরপুর হয়ে ওঠে, নানা ভাবনায় রদবদলের ইচ্ছা উচ্চারিত ও প্রসারিত হয়।

জানা আছে যে দুনিয়া কাঁপানো ১৯১৭-র অক্টোবরের শেষ দশ দিনে যেন ত্রহ্যস্পর্শ যোগ হয়। শাসক সরকার ও নানা কায়েমি স্বার্থের দ্বন্দ্বও দুর্বলতা, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও পুনর্নির্মাণের জন্য লেনিনের স্থির নির্দেশ ও দক্ষ বলশেভিক সংগঠন আর রাশিয়া জুড়ে গণবিক্ষোভে ও অভ্যুত্থানেই তো বলশেভিক বিপ্লব বাস্তবায়িত হয়। স্মোলনি ইনস্টিটিউট থেকে পরিচালিত সামরিক কমিশনের নেতৃত্বে নেত্রগ্রাদ সোভিয়েতের গণমিলিশিয়া কোয়ালিশন সরকারের সদর দফতর দখল করে, একটি হিসেব মতো হতের সংখ্যা কুল্লে দশ জনের বেশি নয়। কিন্তু এই ইতিহাসে সে দিনের লোকায়তিক সোভিয়েতগুলির নিজস্ব ভাবনার কথা যেন হারিয়ে গেছে। একবিংশ শতকে একটু মনে করা যেতে পারে।

১৪ই মার্চ ১৯১৭। পেত্রগ্রাদ সোভিয়েত এক ঘোষণাপত্রে সারা পৃথিবীকে জানায় যে ইউরোপের ‘পুলিশম্যান’ জার আর নেই, রাশিয়ার জনগণ স্বাধীন, খুব শীগগীরই সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিষদ নির্বাচিত হবে। অতএব ইউরোপে যুদ্ধের আর দরকার নেই, যুযুধান দেশগুলির জনগণও যেন নিজেদের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, হল্লার রাজাদের স্বার্থেই তো যুদ্ধ। এই মৃত্যু উপত্যকায় আন্তর্জাতিক শান্তি ফেরাতেই হবে, এটাই পেত্রগ্রাদ সোভিয়েতের বার্তা। পাশাপাশি আছে সৈন্যবাহিনীর ছোট একটা ইউনিট ২০২ নং মাউন্টেন রেজিমেন্ট। সেই ইউনিট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই পেত্রগ্রাদে সরকারের কাছে ১০ মার্চ চিঠি পাঠায়। রাশিয়ায় সরকারকে অবশ্যই সাধারণ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। জার্মান সৈন্যরা রাশিয়ার জনগণের তুতো ভাই। ওই একই খেটে খাওয়া কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির অংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনও কৃষকদের নিয়ে একটা শব্দও ব্যয় করেনি। দ্রুত কৃষি সমস্যার সমাধান চাই, সৈন্যদের বেশি অংশ তো আদতে কৃষকই। কৃষকেরা তুষ্ট হলে সৈন্যদের আর বিপ্লব বিরোধী কাজে ব্যবহার করা যাবে না, এই গণতান্ত্রিক আশ্বাসবাণীও দেওয়া হয়।

পেত্রোগ্রাদের রাস্তায় সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ। ছবি: গেটি ইমেজেস।

কৃষকদের নিজস্ব সংগঠনদের নাম ভোলস্ট বা কৃষক কমিটি। ভোরোনেজ-এর নানা ভোলস্ট-এর কৃষকরা ৯ এপ্রিল সরাসরি সরকারকে নিজেদের দাবি সনদে জানায় যে জমি জনগণের। পতিত জমি রাখা চলবে না, ভোলস্ট ওই সব জমি চাষ করবে।

কৃষি সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কৃষক কমিটি বা ভোলস্টের। অরণ্য, পুকুর ও অন্যান্য কৃষি সম্পদের উপর জনগণের সমান অধিকার আছে, এই মর্মে সরকারকে আইন জারি করতে হবে। ইতিমধ্যে ভোলস্ট এই মাফিক কাজ শুরু করছে। দাবিপত্রের সুরটা একেবারে ধমকানির, এই ধমকানিটা সরকার ও ভূমধ্যকারী— উভয়ের প্রতিই।

এপ্রিল-মে জুড়ে সারা রাশিয়ার নানা শিল্পের সোভিয়েতরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ ও তার যথোপযুক্ত মজুরির পক্ষে বার বার দাবি তুলতে থাকে। কিন্তু কায়ক্লেশে জীবনধারণই সব নয়, কাজের স্বচ্ছ পরিবেশ চাই, পাওয়া অবকাশেও সমতা থাকতে হবে। তাই কোনও কোনও সোভিয়েত ওভারটাইম বা মজুরির বিনিময়ে অতিরিক্ত খাটানোর প্রথা একেবারে বাতিল করতে চেয়েছিল। নারী শ্রমিকদের শিশুসন্তানদের দেখভাল করার জন্য কর্মস্থলে ‘ক্রেশ’ গড়ে তোলার বিধান দেওয়া হয়, কাজের সময় প্রতি তিন ঘণ্টায় আধ ঘণ্টার বিরতিতে মা সদ্যোজাত শিশুদের দুধ খাওয়াবে, এই বিধি রুজু করতে মালিকদের বলা হয়েছিল। কারখানায় শৌচাগার ও স্বাস্থ্য পরিবেশ উন্নতি করার জন্য শ্রমিক প্রতিনিধি দল তৈরি করার দাবি ছিল, অবকাশের সময় মালিকরা শ্রমিকদের ব্যক্তিগত জীবনচর্চায় যাতে হস্তক্ষেপ না করে, সেই নিষেধাজ্ঞাও সোভিয়েত ঘোষণা করে। এই সব দাবিদাওয়ার বিরুদ্ধে এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের গোড়ায় শিল্পপতিরা কারখানায় লক আউট করতে থাকে। মে মাসে শ্রমিক ধর্মঘটে রাশিয়া উত্তাল হয়, সোভিয়েতগুলিকে ছাপিয়ে ফ্যাক্টরি কমিটি গড়ে ওঠে। কারখানার দৈনন্দিন উত্পাদন ও শ্রম ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের ভার এই কমিটিগুলি নেয়, দলমত নির্বিশেষে সব শ্রমিকই এই কমিটির সদস্য। কোনও পার্টিই এই উদ্যমকে সমর্থন করেনি, জুলাই থেকে এই কমিটিগুলিকে দলীয় সেলে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চলে, বলশেভিকরা এই কাজে সবচেয়ে সফল হয়। কিন্তু দৈনন্দিন ও সার্বিক জীবনচর্চায় কমিটির দাবিগুলি দেশব্যাপী কাউন্সিল অব সোভিয়েতের কাছে পৌঁছে যায়।

এই সব ঘোষণাপত্রের মধ্যে জ্বলজ্বল করে কাজাখস্তান ও তুর্কিস্তানে গড়ে ওঠা সোভিয়েত মুসলমান মেয়েদের অধিকার সংক্রান্ত এক অনন্য ঘোষণাপত্র। ‘কোরানে মেয়ে ও ছেলে সমান। পবিত্র গ্রন্থানুসারে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে ছেলেদের মতোই মেয়েদেরও অংশগ্রহণের সমান অধিকার আছে।’ তাই ১৯১৭-র রাশিয়ার সমাজে পুরুষের মতো মেয়েদেরও সমানাধিকার থাকবে। আগামী প্রজাতন্ত্রে ভোট দেওয়া তো প্রত্যেক মুসলমান রমণীর ‘নৈতিক কর্তব্য’। বিবাহবিচ্ছেদেও মেয়েদের সমান অধিকার থাকবে, বিয়ের জন্য পাত্রীর সম্মতি আবশ্যই প্রাক শর্ত। পরিবারে মেয়েদের উপর অত্যাচার আইনানুসারে নিষিদ্ধ। কোরানের ধর্মতত্ত্ব রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক অধিকারের বন্ধনের ভাষায় অনন্য ইসলামি ঘোষণাপত্রটি লেখা হয়েছিল।

অধিকারের ভাবনা, গণতন্ত্রের ভাবনা, এই সব দলিল কোনও বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বক্তব্য নয়। লোকায়তিক সোভিয়েতগুলিতে সব দলই ছিল, কোথাও বা মেনশেভিক বা সোশ্যাল রেভলিউশনারিদের প্রাধান্য, কোথাও বা বলশেভিক গরিষ্ঠ, তবে সনদগুলি সব সোভিয়েত ও কমিটির সদস্যদের ঐকমত্যে রচিত। কেবল স্বাধীনতা বা গণতন্ত্রের আকার প্রত্যাশা নয়, উপরন্তু লোকায়তিক মেজাজ এই সনদগুলিতে ধরা পড়ে।

সেপ্টেম্বর মাসে লেনিন গা-ঢাকা দিয়ে আছেন, ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’ বলে বইটা শেষ করতে ব্যস্ত। এই একটি অ-লেনিন সুলভ শিরোনামে তিনি একটি প্রবন্ধ লেখেন, ‘সমঝোতা প্রসঙ্গে’ (১ সেপ্টেম্বর)। প্রবন্ধটিতে তিনি সোভিয়েতের মেজাজকে নির্ণয় করে বলেন যে এই সংগঠনগুলিই গণতান্ত্রিক, তলা থেকে উঠে আসা, সাধারণ লোকের উদ্যোগ ও স্ব-অধীনতার ফসল। সামাজিক ও রাজনৈতিক দিন বদলে এইগুলিই ভরসা, শুধুমাত্র সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচনে সোভিয়েতের কাজ সীমিত নয়। লেনিনের কাণ্ডজ্ঞান প্রখর, ইতিহাস গড়ার স্বপ্নেও তিনি বিভোর। মার্কসবাদের বলশেভীয় ব্যাখ্যায় সমাজতন্ত্র উত্তরণের পর্ব, সেই পর্বে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র দরকার, পূর্ণ গণতন্ত্র অবাস্তব। বহুজনের অধিকারের পক্ষে ওই একনায়কতন্ত্র, অল্পজনের অধিকার কেড়ে নিতে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ছোট ছোট সোভিয়েতগুলি ওই নতুন রাষ্ট্রতন্ত্র তৈরি করার ধাপে, সোভিয়েতের উদ্যোগে ও ক্রিয়াকাণ্ডে বুর্জোয়া আমলাতন্ত্র ধ্বংস হয়ে বলশেভিক নেতৃত্বে নতুন সোভিয়েত রাষ্ট্র গড়ে তোলার ভিত রয়েছে। এক বড় ঐতিহাসিক চেতনার আবেষ্টনে সোভিয়েতগুলির উদ্যোগ সংহত হয়েছিল, সোভিয়েতের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিগড়ে সোভিয়েত রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল, সেই কাঠামো ৭৪ বছর স্থায়ীও ছিল। রাশিয়ার সমাজও আমূল পরিবর্তিত হয়। খালি উদ্যোগ সবই কেন্দ্রের লোকায়িত ধরনটা বাতিল হয়ে যায়। গৃহযুদ্ধজনিত পরিস্থিতির আপতিক দায় ছিল, ছিল সমাজতন্ত্রতে কেন্দ্রীয় শিল্পায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার তাগিদ, কিন্তু ঐকান্তিক ইতিহাস দর্শন ও জগৎবীক্ষাও  সম ভাবেই জ্ঞানকাণ্ডে ক্রিয়াবান থেকে যায়। নানা সময়ে লোকায়তিক সোভিয়েত, কমিটি বা ভোলস্টদের অনেক দাবিও বিধি-বিধানে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু রাশিয়ার লোকায়তিক সোভিয়েত ও সোভিয়েত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অভিমুখ কালক্রমে আলাদা হতে থাকে, সব নেতৃত্ব দল ও ব্যক্তিত্ব কমবেশি সেই পৃথকীকরণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। সম্ভাবনার স্ফূলিঙ্গগুলি মাঝে মাঝে চৈতন্যে ঝলসে ওঠে। মনে আসে যে সবাইকে মান দিলেই সেই মানটি ফিরে পাওয়া যায়, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত লোকতন্ত্রে পোক্ত হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন