করতারপুর করিডর নিয়ে পাকিস্তান সরকারের ভিডিয়োয় দেখা গেল জার্নেল সিংহ ভিন্দ্রানওয়ালে, শাবেগ সিংহ-সহ তিন খলিস্তানি জঙ্গির মুখ। তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। 

শুক্রবার ভারতের অংশে করতারপুর করিডর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে আজ পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে শিখ তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানে একটি গুরুদ্বারে যাচ্ছেন। পিছনে রয়েছে খলিস্তানি জঙ্গি ভিন্দ্রানওয়ালে, শাবেগ সিংহ ও অমৃক সিংহ খালসার ছবি। ওই তিন জঙ্গিই অপারেশন ব্লু স্টারে নিহত হয়। খলিস্তানের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে গণভোট চেয়ে একটি খলিস্তানি গোষ্ঠীর পোস্টারও দেখা যাচ্ছে। 

এর পরেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সূত্রের মতে, পাকিস্তানের ইমরান খান সরকারের চেয়েও বড় শক্তি করতারপুর করিডর নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। স্পষ্ট ভাবে না বললেও ইঙ্গিত যে পাক সেনার দিকে তা নিয়ে সন্দেহ নেই কূটনীতিকদের। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘প্রকাশ্যে পাকিস্তান শান্তি, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগ ও সে দেশে সংখ্যালঘুদের স্বার্থের কথা বলে। আসলে ওরা খলিস্তান নিয়ে আরও প্রচার করতে চায়।’’ সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, করতারপুর করিডর দিয়ে যেতে শিখ তীর্থযাত্রীদের পাসপোর্ট লাগবে না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের মতে, এতে শিখ ও হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: প্রাণে বাঁচতে মেষপালক সেজে ঘুরে বেড়াত বাগদাদি! দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের মতে, মোদী সরকার পাকিস্তানের এই কৌশলের কথা জানে। কিন্তু তাও শিখ তীর্থযাত্রীদের কথা ভেবে করিডর প্রকল্পে রাজি হয়েছিল ভারত। তবে কোনও সমস্যা হলে করিডর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার দু’দেশেরই আছে। পুরো পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রাখা হবে। 

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের মতে, পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুদ্বারে বিচ্ছিন্নতাবাদী খলিস্তানিদের কার্যকলাপের কথা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছে ভারত। পাকিস্তানকে বিষয়টি জানানোও হয়েছে। তবে 

প্রায় একই সুরে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহের বক্তব্য, ‘‘আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি করতারপুরের পিছনে পাকিস্তানের গোপন উদ্দেশ্য আছে। এই ভিডিয়ো থেকে সেটাই প্রমাণ হল।’’ তাঁর মতে, পাকিস্তান করতারপুর করিডরকে ব্যবহার করে ফের পঞ্জাবে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।