টানা চতুর্থ বারের জন্য জার্মানির ক্ষমতা দখলের পথে আঙ্গেলা মের্কেল। বুথফেরত সমীক্ষা তেমনই ইঙ্গিত দিতে শুরু করল। পর পর তিনটি নির্বাচনে জিতে একটানা ১২ বছর ইতিমধ্যেই জার্মানির চ্যান্সেলর পদে কাটিয়ে দিয়েছে মের্কেল। এ বারের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ ব্লককে (সিডিইউ-সিএসইউ জোট) কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসডিপি)। কিন্তু ভোট মেটার পরে সমীক্ষা জানাচ্ছে, প্রায় ৩৩ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে মের্কেলের কনজারভেটিভ ব্লকই বৃহত্তম দল হতে চলেছে এ বারও। ফলে চতুর্থ বারের জন্য মের্কেলের ক্ষমতায় আসার পথ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীরের ভুয়ো ছবি দেখিয়েছে পাকিস্তান! পর্দাফাঁসে বেজায় অস্বস্তি

 ২০ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়তে চলেছে এসডিপি। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে অতি দক্ষিণপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ১৩ শতাংশেরও বেশি ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থান পেতে চলেছে বলে সমীক্ষার আভাস। মের্কেলের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভদের আসনসংখ্যা কিন্তু এ বার অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মের্কেলকে নতুন জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে।

আরও পড়ুন:ওরা আর বেশি দিন নেই, ট্রাম্পের পাল্টা উত্তর কোরিয়াকে

নির্বাচনের আগে শাসক জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া এসডিপি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হতে পারে। কিন্তু তারা কিছুতেই মের্কেলের জোটে ফিরবে না বলে সে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন। আর তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা এএফডি-র সঙ্গে জোট করা মের্কেলের পক্ষে সম্ভব নয়। ওই দলের অতি দক্ষিণপন্থী আদর্শের সঙ্গে কনজারভেটিভ ব্লকের আদর্শ একেবারেই মেলে না। তা ছাড়া সিরীয় শরণার্থীদের জন্য মের্কেল যে ভাবে জার্মানির দরজা খুলে দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েই এই প্রথম বার জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্দেস্ট্যাগে ঢুকতে চলেছে মাত্র চার বছর আগে তৈরি হওয়া দলটি। ফলে মের্কেলের সঙ্গে হাত মেলানো ওই দলের পক্ষেও কঠিন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রি ডেমোক্র্যাটস এবং গ্রিন পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে মের্কেল সরকার গঠন করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওই দুই দল মের্কেলের ডাকে সাড়া দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।