মহিলাকে দেখতে অত্যন্ত ‘পুরুষালি’। তাই তাঁকে দেখে কোনও পুরুষের আকৃষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না! যুক্তিটা ছিল এ রকমই। 

ইটালির অ্যানকোনার এক আপিল কোর্টে একটি ধর্ষণের মামলার শুনানিতে তিন জন মহিলা বিচারকের বেঞ্চের সামনে অভিযোগকারিণী সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছিলেন ধর্ষণে অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন। এমনকি এই ‘যুক্তি’র জোরে ২০১৭ সালের ওই মামলায় রেহাই দেওয়া হয় দুই অভিযুক্তকেই। নির্যাতিতার আইনজীবী সিনজ়িয়া মোলিনারো ফের আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার ইটালির সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। তখনই প্রকাশ্যে আসে এই তথ্য। এই ‘অদ্ভুত যুক্তি’ কেন মেনে নিল মহিলা বিচারকদের বেঞ্চ— প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গত সপ্তাহান্ত থেকেই অ্যানকোনার ওই আপিল কোর্টের বাইরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। 

২০১৫ সালের কথা। অ্যানকোনায়পেরু থেকে আসা বছর বাইশের এক তরুণী অভিযোগ করেন, তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ধর্ষণের প্রমাণও মেলে। তাঁর রক্তে উচ্চ মাত্রায় ‘বেনজ়োডায়াজ়েপিন্স’ নামে ঘুমের ওষুধের উপাদানও মিলেছিল। তরুণীর আইনজীবী মোলিনারোর দাবি, সে দিন বিকেলে একটি ক্লাসের পরেস্থানীয় পানশালায় যান নির্যাতিতা। সেখানেই তাঁর পানীয়ে ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল অভিযুক্তেরা। ২০১৬ সালে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পরের বছর মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতে হাজির হতে পারেননি অভিযোগকারিণী। তিনি তত দিনে ফিরে গিয়েছেন নিজের শহর পেরুতে। বিচারকদের তাই নির্যাতিতার একটি ছবি দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়ে ছবিটা দেখেই বেঞ্চ অভিযুক্তদের ‘যুক্তি’ মেনে নেয়। মহিলাদের বেঞ্চ জানায়, ওই মহিলাই যে সে দিন পানশালায় গোটা বিষয়টি সাজিয়ে তোলেননি— এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্তদের সমর্থনে আরও যুক্তি দিয়ে তাঁরা বলেছিলেন, ‘‘অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের ফোনে মহিলার নম্বরটি ‘ভাইকিং’ বলে সেভ করা ছিল। এই শব্দটি সাধারণত ‘পুরুষালি’ অর্থেই ব্যবহার হয়ে থাকে। এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তরুণীর আইনজীবী। 

মোলিনারোর বক্তব্য, ‘‘অভিযুক্তদের রেহাই দেওয়ার পক্ষে যে সব যুক্তি দেখানো হয় তার সব ক’টিই ন্যক্কারজনক। সব চেয়ে অবাক লাগছে এটা শুনে যে ওঁরা বলতে পারলেন, এক জন মহিলা ‘কুৎসিত’ দেখতে বলে তাঁকে অভিযুক্তদের ‘পছন্দ হওয়ার’ প্রশ্নই নেই!’’  

এ বার মামলাটির শুনানি হবে অ্যানকোনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, পেরুজিয়ায়। মোলিনারোর কথায়, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তাঁর মক্কেল। 

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে মহিলাদের যে সংগঠন, তাদের টুইট: ‘শুধু যৌনসুখের চাহিদার জন্যই ধর্ষণ ঘটে না। বরং নির্যাতিতার প্রতি অদম্য ঘৃণাই তার কারণ। ফলে নির্যাতিতা কত সুন্দর, বিষয়টি একেবারেই তার উপর নির্ভর করে না।’