• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সাহায্যে সেনা, আংশিক বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশ

Dhaka
জীবাণুমুক্তির কাজ চলছে ঢাকায়।—ছবি এএফপি।

নানা মহলের সমালোচনার পরে অবশেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কিছুটা শক্ত পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ সরকার। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে কার্যত আংশিক লকডাউনের ঘোষণা করল  শেখ হাসিনা সরকার। সমস্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, আদালত এই ১০ দিন বন্ধ থাকবে। গণপরিবহণ চলবে সীমিত ভাবে। দেশবাসীকে দরকার ছাড়া বাড়ির বাইরে না-বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব চেয়ে বড় কথা, এই আংশিক লকডাউন বলবতের জন্য দেশের সর্বত্র সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সব মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ১০ দিন ব্যাঙ্কও কাজ করবে সীমিত আকারে। টাকা লেনদেনে যথাসম্ভব অনলাইন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। কাঁচা বাজার, ওষুধের দোকান এবং জরুরি পরিষেবাগুলি চালু রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব। কালোবাজারি রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। 

সচিব জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মানুষকে বুঝিয়ে বিধিনিষেধগুলি মান্য করাতে প্রশাসনকে সাহায্য করবে সেনাবাহিনী। কোয়রান্টিনের পরামর্শ পাওয়া বিদেশ ফেরতরা সঠিক ভাবে বিধিনিষেধ পালন করছেন কি না, সেনাবাহিনী তা-ও দেখবে। মঙ্গলবার থেকেই বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলিতে তারা মোতায়েন হচ্ছে। তিনি আরও জানান— শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কীর মূল অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান-সহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণে এ পর্যন্ত ৩ জন মারা গিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩। কিন্তু  কিটের অভাবে এত দিন প্রয়োজন মনে করলেও রোগীদের পরীক্ষা করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ডাক্তারেরা। গত তিন মাসে বিশ্বের নানা দেশ থেকে অন্তত ২ লক্ষ মানুষ দেশে ফিরে ভিড়ে মিশে গিয়েছেন বলে বেসরকারি সূত্রে দাবি। বিদেশ ফেরতদের কোয়রান্টিনের কোনও বন্দোবস্ত সরকার এত দিন করেনি। ফলে ঘরবন্দি থাকার পরামর্শ দিয়েই 

ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে প্রশাসনকে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমণ-প্রতিরোধী পোশাকও পাননি। গত দু-দিনে বেশ কয়েক হাজার করোনা পরীক্ষার কিট সাহায্য হিসেবে পাঠিয়েছে চিন। পাঠিয়েছে মাস্ক ও গ্লাভসও। কিন্তু সরকারের ওপর ভরসা না-করে ঢাকায় বহু আবাসনের বাসিন্দারা নিজেদের মতো করে কোয়রান্টিনের বন্দোবস্ত করে তা বলবত করেছে। তার পরে সোমবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন