রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকের গোড়াতেই অস্বস্তিতে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আজ জেনিভায় ওই বৈঠকের শুরুতেই কাশ্মীর-প্রশ্নে ভারতকে বিঁধলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বৈঠকে কাশ্মীর-প্রশ্নে পাকিস্তান ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে বলে আশঙ্কা দিল্লির। মানবাধিকার কমিশনার মিশেল নিজেই কাশ্মীর-প্রসঙ্গ তোলায় ইসলামাবাদ কিছুটা সুবিধে পেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা।

মিশেল বলেন, ‘‘আমরা কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার দু’দিকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাচ্ছি। সম্প্রতি ভারত সরকার কাশ্মীরে ইন্টারনেট যোগাযোগ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও পাকিস্তান সরকারকে কাশ্মীরিদের মানবাধিকার রক্ষার আর্জি জানিয়েছি আমরা। এখন বিশেষত ভারতের কথাই বলতে চাই। আমার অনুরোধ, কাশ্মীরে কার্ফু তুলে নিক দিল্লি। মানুষকে ন্যূনতম পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলতে হবে।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘কাশ্মীর নিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের সামিল করতে হবে।’’ অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিশেল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ফলে প্রবল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।’’

সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, মানবাধিকার পরিষদে দু’টি পদক্ষেপ করতে পারে পাকিস্তান। হয় তারা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা চাইবে। সে ক্ষেত্রে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট স্থির করবেন ওই আলোচনা হবে কি না। তা না হলে কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাশ করাতে চাইবে তারা। সে ক্ষেত্রেও ভোটাভুটি হবে। নয়াদিল্লি ভোটাভুটিতেই বাজিমাত করতে চাইছে।

সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিষদের ৪৭টি সদস্য-দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই দেশগুলিকে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পরে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি বা হিংসা হয়নি। সূত্রের খবর, জেনিভায় পাকিস্তানি বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি প্রতিনিধিত্ব করলেও ভারতের তরফে নেতৃত্ব দেবেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) বিজয় সিংহ ঠাকুর। পাক বিদেশমন্ত্রীর গুরুত্বকে লঘু করতেই জেনিভায় বিদেশমন্ত্রীকে না পাঠানোর কৌশল নিয়েছে দিল্লি।