তিন মাস আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছিল তাঁর। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক রুনি জ্যাকসন তখনই জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য একদম ঠিকঠাক থাকলেও সামান্য ওজন কমানো উচিত তাঁর। ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি চিকিৎসকের কথা অক্ষরে অক্ষরে মানতে শুরু করেছেন। পছন্দের জাঙ্কফুড, রেড মিট আর সফ্‌ট ড্রিঙ্ক ছেড়ে এখন নাকি স্যালাড, স্যুপ আর মাছে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর এমনটাই।

চলতি বছরের গোড়ায়, জানুয়ারি মাসে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। রুনি তখন জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের উচ্চতা ছ’ফুট তিন ইঞ্চি। ওজন ১০৮ কিলোগ্রামের একটু বেশি। ওই চিকিৎসকের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্পকে মোটা বলা চলে না। কিন্তু অন্তত ৫ থেকে ৬ কেজি ওজন কমানো উচিত তাঁর। কারণ আর কয়েক কিলোগ্রাম চর্বি বাড়লেই প্রেসিডেন্টকে মোটার তালিকায় রাখতে হবে। তা ছাড়া প্রেসিডেন্টের যে সব রক্ত পরীক্ষা হয়েছিল, সেগুলোর উপর ভিত্তি করে তাঁর খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শও দিয়েছিলেন রুনি।

সম্প্রতি জানা গিয়েছে, রেড মিট খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তার জায়গায় কম ক্যালোরির মাছ বেশি করে খাচ্ছেন। সেই সঙ্গেই ট্রাম্পের ডায়েটে নিয়মিত থাকছে স্যালাড আর স্যুপ। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার খেতে খুব পছন্দ করতেন ট্রাম্প। বছর খানেক আগে পর্যন্ত নৈশাহারে দু’টো বার্গার, দু’টো ফিশ স্যান্ডউইচ, চকোলেট মিল্ক শেক আর ডায়েট কোক খেতেন তিনি। এখন সে সব খাবারে আর হাত দিচ্ছেন না তিনি।

আরও পড়ুন: আজীবন প্রেসিডেন্ট! ইঙ্গিতে জল্পনা

এক সময় তাঁর খাবারে বিষ দেওয়া হতে পারে বলে ভয় পেতেন ট্রাম্প। তাই মাঝেমধ্যেই ম্যাকডোনাল্ডস থেকে খাবার আনাতেন। কারণ প্রেসিডেন্টের যুক্তি ছিল, ওখান থেকে যে প্রেসিডেন্টের খাবার আসতে পারে, তা কেউ ভাবতেও পারবে না, ফলে সে খাবারে বিষ থাকার ভয়ও থাকবে না। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শে এখন জাঙ্ক ফুডে বিরতি টেনেছেন ট্রাম্প।

তবে প্রাত রাশে বেকন খাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। সপ্তাহ খানেক আগে হ্যামবার্গারও খেয়েছিলেন একটা। কিন্তু ওইটুকুই। এর বেশি নিয়ম ভঙ্গ করছেন না। রুনি অবশ্য জানিয়েছেন, ব্যায়ামের থেকে ডায়েট নিয়ন্ত্রণই মনে ধরেছে প্রেসিডেন্টের। তবে ওই চিকিৎসকের বক্তব্য, কিছু কিছু ব্যায়ামও প্রেসিডেন্টকে করতে হবে। ট্রাম্প নাকি মেনেও নিয়েছেন আগামী এক বছরের মধ্যে সাড়ে চার থেকে ছ’কেজি ওজন কমাবেন তিনি। রুনির বক্তব্য, ডায়েট, ব্যায়াম আর কিছু ওষুধের সাহায্যে খুব সহজেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।