মার্কিন প্রেসিডেন্টের বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নিন্দাপ্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। পক্ষে পড়েছে ২৪০টি ভোট। বিপক্ষে ১৮৭টি। স্পিকার পেলোসি ডেমোক্র্যাটদের তো বটেই, রিপাবলিকান সদস্যদের কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন এই নিন্দা প্রস্তাব সমর্থনের জন্য। চার জন রিপাবলিকান সদস্য সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর প্রস্তাবে। তবে ভোটাভুটি ঘিরে হাউসের হাওয়া ঘণ্টাখানেক উত্তপ্ত ছিল। সে সময়ে পেলোসিকে চেম্বারে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।  

ভোটাভুটির পরে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলান ওমর বলেছেন, ‘‘ছোট ছেলেমেয়েদের বলছি, প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে যত ভারী শব্দই ধেয়ে আসুক— সেগুলো আমরা শুনব, দেখব কিন্তু কখনও কাউকে বলতে দেব না, যে এটা আমাদের দেশ নয়।’’ কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ স্কোয়াডের চার তরুণীর মধ্যে ইলানও এক জন। আলেকজ়ান্দ্রিয়া 

ওকাসিয়ো কর্তেজ়, ইলান ওমর, রশিদা তালিব এবং আইয়ানা প্রেসলি— ট্রাম্পের আক্রমণের নিশানা হতে হয়েছে চার অ-শ্বেতাঙ্গ সদস্যকে। ট্রাম্প তাঁদের বলেছিলেন, ‘‘যেখান থেকে এসেছেন, সেখানেই ফিরে যান।’’ তার নিন্দায় সরব হয়েছে হাউস। 

কিন্তু তার মধ্যেই পেলোসির শব্দ চয়ন নিয়ে আপত্তি ওঠে হাউসের অন্দরে। বলা হয়, ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে পেলোসি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন, তাতে হাউসের বিধিভঙ্গ হয়েছে। সেই সময়ে চিৎকারের মধ্যে মিসৌরির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইমানুয়েল ক্লিভার উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে উঠে গ্যাভেল ছুড়ে ফেলেন!  

হাউসের সদস্য স্টোনি হোয়ার দাবি তোলেন, রেকর্ড থেকে পেলোসির মন্তব্য বাদ দেওয়া হোক। তবে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত হাউসে ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত হয়, রেকর্ড থেকে মন্তব্য বাদ দেওয়া হবে না এবং পেলোসিকে বলতে দেওয়া হবে। পেলোসি পরে বলেছেন, নিন্দাপ্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জন্য এতটুকু অনুতপ্ত নন। তাঁর মন্তব্য থেকে এক চুলও সরবেন না। বিধি অনুযায়ী, হাউসে নিন্দা প্রস্তাব সংক্রান্ত বিতর্কে সদস্য, সেনেটর অথবা প্রেসিডেন্টকে এ ভাবে আক্রমণ করা যায় না। প্রেসিডেন্ট বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন— এ ভাবে বলতে পারেন না সদস্যরা। 

এই সবের মধ্যে আবার ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের কাউন্সেলর কেলিয়ান কনওয়ে এক সাংবাদিককে তাঁর জাতিসত্তা নিয়ে প্রশ্ন করে নয়া বিতর্ক বাধিয়েছেন।