লস্কর-এ-তইবাকে নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় রাখলেও, লস্করের মূল দুই প্রকাশ্য সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি) এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশন (এফআইআইএফ)-কে নিষিদ্ধ তালিকার বাইরেই রাখল পাকিস্তান। সোমবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম অথরিটি (এনসিটিএ)-র প্রকাশ করা নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় নাম নেই লস্কর-এ-তইবা প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের এই দুই সংগঠনের।

ওই তালিকায় নাম রয়েছে ৬৮টি সংগঠনের। ওই তালিকায় থাকা সংগঠনগুলির অধিকাংশই বালুচিস্তানের। এ ছাড়াও রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান এবং তার বিভিন্ন শাখা সংগঠন এবং ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন সংগঠন। সেখানে লস্করকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানকে পাঠানো একাধিক ডসিয়েরে ভারত অভিযোগ করেছিল, লস্করের প্রাণ শক্তি হল জামাত-উদ-দাওয়া। ওই সংগঠন আদতে লস্করের প্রকাশ্য সংগঠন এবং সেখান থেকেই লস্করকে অর্থ থেকে শুরু করে সমস্ত সুযোগ সুবিধা যোগান দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পুলিশের হাত থেকে দুষ্কৃতী ছিনতাই, জনতার সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ পার্কসার্কাসে​

ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ভারতের। ওই দুটি সংগঠনেরই প্রধান হাফিজ সঈদ।

পুলওয়ামা হামলার পরেই ভারত অভিযোগ করেছিল পাকিস্তানের মাটিতে বলেই জইশ ওই হামলার ছক কষেছিল। পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তানের বুকে বেড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠনগুলির তালিকা-সহ ডসিয়ের তুলে দেয় পাকিস্তানের হাতে। গোটা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ‘কড়া’ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: দূষণে পাকিস্তানকে টেক্কা দিল ভারত, সবচেয়ে দূষিত রাজধানী দিল্লি, শহর গুরুগ্রাম​

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের ঘোষণা করা ওই ‘কড়া ব্যবস্থা’ আদতে লোক দেখানো। ভারতীয় গোয়েন্দাদের ওই দাবির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ওই তালিকায় যেখানে হাফিজ সঈদের ওই দুই সংগঠনকেই পাকিস্তানের সন্ত্রাস বিরেধী আইনে নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে। পাক সরকারের এনসিটিএ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে ওই তালিকা সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছে সোমবার। আর সেই তালিকার উল্লেখ করেই ভারতীয় গোয়্ন্দারা বলেন, ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তান আদৌ আন্তরিক নয়।       

(সারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে বাংলায় খবর পেতে চোখ রাখুন আমাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে।)