দেশ গঠনের ৭০ বছর। রবিবার রাজধানী পিয়ংইয়্যাংয়ে তাই ব়ড়সড় কুচকাওয়াজ করল উত্তর কোরিয়ার সেনা। তাতে ট্যাঙ্ক, কামান, গ্রেনেড লঞ্চার সব ছিল। ছিল না শুধু কিম জং উনের ‘গর্ব’ আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। গত জুন মাসে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই ক্ষেপণাস্ত্রেই আমেরিকাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার শাসক।
ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বৈঠকে সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছিলেন কিম। সে দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার এই কুচকাওয়াজকে যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মনে করছেন কোরীয় উপদ্বীপের রাজনীতিকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, ‘‘কথা রাখলেন কিম।’’ একটা কাঁটা তবু রয়েই গেল। কুচকাওয়াজ শেষে 
চিনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর এক সদস্যকে সঙ্গে নিয়েই সমবেত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা গিয়েছে কিমকে।
এক সময়ে পরমাণু অস্ত্র ছাড়তে নারাজ কিমকে শিক্ষা দিতে চিনের সাহায্য চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু বেজিং তাতে সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ ট্রাম্পের। আজ কুচকাওয়াজ শেষে  কিমের এই চিন-প্রীতি দেখানোটাও এক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। জুনের ওই ‘ঐতিহাসিক’ বৈঠকের পরে উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার কর্তারা বেশ কয়েক বার সফর-পাল্টা সফর সেরেছেন। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়োর পিয়ংইয়্যাং সফর বাতিল করেছেন ট্রাম্প। তাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশ খানিকটা জলঘোলাও হয়। কিছুটা উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতিও। আজ সেনা কুচকাওয়াজে তাই কার্যত কোনও রকম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন না-করে কিম আমেরিকার কাছে অনেকটাই সুর নামালেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও উত্তর কোরিয়া সরকারি ভাবে এই কুচকাওয়াজের কোনও ছবিই প্রকাশ করেনি।