তোড়জোড় শুরু হয়েছিল আগেই। সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকের প্রস্তুতি পর্ব এ বার আরও এক ধাপ এগোল।

গত কাল নিউ ইয়র্কে মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়োর সঙ্গে বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান কিম ইয়ং চোল। চোল এর আগে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ছিলেন। তাঁর মতো কোনও শীর্ষস্থানীয় উত্তর কোরীয় কূটনীতিক গত ১৮ বছরে আমেরিকার মাটিতে পা রাখেননি। বৈঠকের পরে মার্কিন বিদেশসচিব নিজেই টুইট করেন, ‘‘কাজের পাশাপাশি কিম ইয়ং চোলের সঙ্গে নৈশভোজটাও ভাল হল। স্টেক, কর্ন আর চিজ ছিল মেনুতে।’’ পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টুইট করে বলেন, ‘‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক ভালই হয়েছে।’’

গত সপ্তাহে আচমকা একটি চিঠি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার পরেও আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসার ইচ্ছে প্রকাশ করেন কিম। ট্রাম্প নিজেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করেন।

কাল রাতে সাড়ে আটটা নাগাদ নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের এক বিলাসবহুল বহুতল থেকে বেরোতে দেখা যায় চোলকে। অনেকেরই ধারণা, বৈঠকের রাস্তা মসৃণ রাখতে চোলকে আমেরিকা পাঠিয়েছেন খোদ কিম। মার্কিন আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রায় নব্বই মিনিট ধরে চোলের সঙ্গে কথা বলেছেন পম্পেয়ো। বিদেশ দফতরের মুখপাত্র হেথার নেওয়ার্ট বলেছেন, ‘‘উত্তর কোরিয়ার ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করতেই নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন পম্পেয়ো। সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে আমরা খুব সক্রিয় ভাবেই প্রস্তুতি পর্ব সেরে রাখছি। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আমরা কতটা দায়বদ্ধ তা বোঝাতেই এই উদ্যোগ।’’

হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব সারা স্যান্ডার্সও আজ সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের বৈঠকটা যাতে ১২ জুনই হয়, সে জন্য সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সারার আরও বক্তব্য, ১২ জুন অসুবিধে হলে ১২ জুলাইতেও ট্রাম্প-কিম বৈঠক হতে পারে। সারা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন দলের একটি বৈঠক হয়েছে। আগামিকালও ফের দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসবেন। সারা আরও জানিয়েছেন, গোটা প্রস্তুতি পর্বে সিঙ্গাপুর সরকারের সদর্থক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, ‘‘এই বৈঠককে সফল করতে প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।’’