লোকসভা নির্বাচনে দেশবাসী তাঁদের পক্ষে যে বিরাট রায় দিয়েছে তা শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, ‘নতুন ভারত’ নির্মাণের জন্য— আজ ফ্রান্সে এই  দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর কার্যালয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত এক সভায় তিনি জানিয়েছেন, ‘নতুন ভারত’ গঠনের জন্য তাঁর সরকার কাজ শুরু করে দিয়েছে। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি, জনগণের টাকা লুঠের মতো ঘটনাগুলি আটকে দেশবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

দুর্নীতির মামলায় একের পর এক বিরোধী নেতানেত্রীকে তলব করছে সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। কারও নাম না করে আজ মোদী বলেন, ‘‘জনসাধারণের টাকা লুঠ, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ আটকে দেওয়া গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও বন্ধ।’’ ‘নতুন ভারত’ গড়তে তাঁর সরকার যে যথেষ্ট তৎপর, তা বোঝাতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সংসদে রেকর্ড পরিমাণ কাজ হয়েছে। নতুন সরকারের এখনও ১০০ দিন হয়নি। অতীতে সরকারগুলির ৫০-৭৫ দিন কেটে যেত পরিকল্পনা করতে এবং শুভেচ্ছা দেওয়া নেওয়া করতে। কিন্তু এই সরকার প্রথম থেকে দ্রুত গতিতে কাজ করছে। ‘ইন্ডিয়া মিন্‌স বিজনেস’— আমরা এটা বোঝাতে চাই।’’

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়েও বিগত সরকারগুলিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘একটা ‘অস্থায়ী’ ব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়েছিল। মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী, গৌতম বুদ্ধ, রামের এই দেশ, যেখানে এখন ১২৫ কোটি মানুষের  বাস, সেখানে একটা ‘অস্থায়ী’ ব্যবস্থা তুলতে ৭০ বছর লেগে গেল।’’ তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিরোধী আইন সম্পর্কে মোদী বলেন, ‘‘তিন তালাক প্রথা বাতিল করেছি। নতুন ভারতে মুসলিম মহিলারা অবিচারের শিকার হবেন না।’’ মোদীর দাবি, দেশবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বাণিজ্য বৃদ্ধিই তাঁর সরকারের উদ্দেশ্য। যদিও নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ রাজীব কুমার জানিয়েছেন, আর্থিক ক্ষেত্রে গত ৭০ বছরে এমন সঙ্কটজনক পরিস্থিতি আসেনি। এই পরিস্থিতিতে সরকার চোখ বুজে রয়েছে। পরে অবশ্য তিনি তা অস্বীকার করেন। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ফ্রান্সে দু’টি বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের উদ্দেশে একটি স্মৃতিমিনারের উদ্বোধন করেন মোদী।