মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদকে জঙ্গি ঘোষণার পাশাপাশি তার পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিকে কব্জা করতে শুরু করল পাকিস্তান।

পাক প্রেসিডেন্ট মামুন হোসেন গত শুক্রবার যে অর্ডিন্যান্সটিতে সই করেছেন, তার ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জ-ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী ও নিষিদ্ধ সব ক’টি জঙ্গি সংগঠনের উপরেই পাক সরকার ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। পাকিস্তানের প্রথম সারির একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, গত মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের উচ্চ পর্যায়ের একটি নজরদারি দল পাকিস্তান সফর করার পরেই জঙ্গিদের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে নড়েচড়ে বসেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে হাফিজের সংগঠনের উপর লাগাম কষার কাজ শুরু হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির জেলা প্রশাসন জামাত-উদ-দাওয়া পরিচালিত একটি ধর্মীয় ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াৎ-এর চারটি চিকিৎসা কেন্দ্রের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে। পঞ্জাব সরকারের নির্দেশেই জেলা প্রশাসনের কর্তারা ওই কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছন। সেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির ডাক্তার ও কর্মীদেরও ব্যাপারেও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রদেশ সরকারের যৌথ দল নজরদারিতে যুক্ত হয়েছে। অ্যাটক, চাকওয়াল, ঝিলাম জেলাগুলিতেও একই ধরনের তল্লাশি হয়েছে। তবে এখন প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, যে ভাবে পাকিস্তানের সর্বত্র জামাত-উদ-দাওয়া-র দফতর খুলে রেখেছেন হাফিজ, তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া খুবই কঠিন কাজ।

তবে এর মধ্যেই ইসলামাবাদের উপর চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। ট্রাম্প সরকারের মুখপাত্র বুধবার বলেন, ‘‘জঙ্গিদের টাকার লেনদেন আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করছে না পাকিস্তান।’’