সার দিয়ে বরফের চুড়ো। উচ্চতা আন্দাজ ১১ হাজার ফুট। বামন গ্রহ প্লুটোর এমনই ছবি ধরা পড়ল নাসার মহাকাশযান ‘নিউ হরাইজনস’-এর ক্যামেরায়।

পৃথিবীর হিসেবে গত মঙ্গলবার নতুন দিগন্তে পা ফেলেছে নাসার ‘নিউ হরাইজনস’। পৌঁছে গিয়েছে প্লুটোর কাছাকাছি। তার পর থেকেই চার-ছয় হাঁকাচ্ছে সে। নাসার বিজ্ঞানীরাই বলছেন এ কথা। ‘‘হোম রান!!! আমাদের অসাধারণ সব উপহার দিচ্ছে নিউ হরাইজনস। প্লুটো ও শ্যারন, দু’জনেই মাইন্ড ব্লোয়িং।’’ —বললেন মুখ্য গবেষক অ্যালান স্টার্ন।

ঠিক তাই, শুধু বামন গ্রহই নয়, তার যমজ বোন শ্যারনেরও ছবি তুলে পাঠিয়েছে নাসা-যান। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বামন গ্রহের শৈশব এখনও কাটেনি। তাঁদের আন্দাজ, মাত্র ১০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছে ওই পর্বতমালা। ৪৫৬ কোটি বছর বয়সি সৌর জগতের কাছে সে শিশু। হয়তো গ্রহের ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের ভাঙাগড়া এখনও চলছে। জানাচ্ছেন, নিউ হরাইজনস-এর ‘জিওলজি, জিওফিজিক্স অ্যান্ড ইমেজিং’ (জিজিআই) টিম-এর গবেষক জেফ মুর। তারা এ-ও জানাচ্ছেন, প্লুটো-যান যে ছবিটি পাঠিয়েছে, তাতে গ্রহের মাত্র ১ শতাংশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তাই অনেকটাই এখনও জানা বাকি।

এই সংক্রান্ত আরও খবর জানতে ক্লিক করুন।

রূপকথার নাম প্লুটো

আজ মেরিল্যান্ডে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবে সাংবাদিক বৈঠক করে জিজিআই দলের প্রধান জন স্পেনসার বলেন, ‘‘বেশ কিছু ছবি পেয়েছি। সেই সব ছবি কাটাছেঁড়া করে ছোট ছোট বিষয়গুলোর উপর জোর দেওয়াই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য।’’ অ্যালান স্টার্ন যেমন বললেন, ‘‘ওই ছবিগুলোতে যে খাড়াই ভূপ্রাকৃতিক গঠন দেখা যাচ্ছে, তা থেকে আমাদের সন্দেহ, ওগুলো আসলে কঠিন বরফের পর্বত।’’ অর্থাৎ পর্বতের চুড়োয় বরফ পড়েনি। গোটা পর্বতটাই বরফের। অ্যালান আরও বলেন, ‘‘তা দেখেই আমরা নিশ্চিত, প্লুটোয় প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে।’’

প্লুটোর উপগ্রহ হাইড্রা-র ছবিও পাঠিয়েছে ‘নিউ হরাইজনস’। প্লুটো, শ্যারন, হাইড্রা— তিন দিনে তিন-তিনটে চমক ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছে নাসার নয়া যান। পরের চমক কী হতে চলেছে, তা ভেবে আপাতত উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন বিজ্ঞানীরা।