বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকে তাঁর নাম সে ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি ঠিকই। কিন্তু র‌্যাপার জগতে বন্ধুবান্ধবরা যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতেন লস অ্যাঞ্জেলেসের র‌্যাপার নিপসি হাসল-কে। এ বছর পেয়েছিলেন গ্র্যামি মনোনয়নও। কিন্তু সে সব এখন অতীত। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই দাঁড়ি পড়ে গেল র‌্যাপ গায়কের জীবনে। রবিবার বিকেলে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের পোশাক বিপণির সামনে বন্দুকবাজের গুলিতে খুন হলেন নিপসি। তাঁর মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সেলিব্রিটি মহলে। সকলে ফের হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ী করছেন দেশের অস্ত্র-নীতিকেই।

শহরের মেয়র এরিক গ্রাসেটি টুইটে লিখেছেন, ‘‘মর্মান্তিক ঘটনা। নিপসি হাসলের প্রিয়জনদের পাশে আছি। অনুভূতিহীন এই ধরনের হামলায় যখনই কোনও তরতাজা প্রাণ শেষ হয়ে যায়, অসম্ভব যন্ত্রণা হয় লস অ্যাঞ্জেলেসের।’’ পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকবাজ এখনও ধরা পড়েনি। নিপসিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরেছে বন্দুকবাজ। ওই ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও দু’জন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং কোনও বড় দল রয়েছে এর পিছনে। 

নিপসির খুনের কথা জানার পরে পপ তারকা রিহানা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, ‘‘কোনও মানে হয় না! ভিতর থেকে নড়ে গিয়েছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ওঁর আত্মা যেন শান্তি পায়। ওঁর স্বজনদের প্রতি সমবেদনা। নিপসির যা হয়েছে, তার জন্য আমি দুঃখিত।’’ নিপসির পোশাক বিপণির বাইরে পুলিশের ব্যারিকেডের পাশেই র‌্যাপারের স্মরণে জমায়েত হয়েছিল। র‌্যাপার স্নুপ ডগ তাঁর জন্য ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘‘বড় তাড়াতাড়ি চলে গেলে। তোমার সঙ্গে কাটানো ভাল সময়গুলোর কথা মনে করব।’’

পরিচিতদের অনেকেই বলছেন, খ্যাতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট লড়াই করেছেন নিপসি। নিজের তৈরি করা মিক্সটেপ বিক্রি করে দিয়েছেন একটা সময়ে। জনপ্রিয় র‌্যাপার জে-জ়েড তাঁর ১০০টি মিক্সটেপ কিনেছিলেন, প্রতিটি ১০০ ডলার দরে। নিপসিকে নিয়ে পপ গায়ক এবং র‌্যাপার ড্রেক শোকবার্তায় বলেছেন, ‘‘সব শুনে ভীষণ হতাশ লাগছে। তুমি আমাদের বড় কাছের ছিলে। ভাল থেকো।’’ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিপসির নিজের টুইটে লেখা, ‘‘শক্তিশালী শত্রু থাকা আশীর্বাদ।’’ লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘গ্যাং কালচার’-এর প্রভাব ছিল নিপসির শৈশবে। সংবাদমাধ্যমে এক বার বলেছিলেন, ‘‘মৃত্যুর সঙ্গে, হত্যার সঙ্গে ওঠাবসা ছিল আমাদের। জায়গাটা যেন রণক্ষেত্র। মানুষ মরে গেলেও কারও কিছু মনে হত না।’’ একটু বড় হওয়ার পরপরই চারপাশের কুখ্যাত সব গ্যাং-এ নাম উঠে গিয়েছিল তাঁরও। সে কথা জানাতে দ্বিধা করেননি নিপসি।

নিজের কমিউনিটিতে বেশ পরিচিতও ছিলেন। বড় হওয়ার পরে রোজগারের অনেকটাই দিয়ে দিতেন হিংসাদীর্ণ ফেলে আসা সেই সব এলাকায়। চেয়েছিলেন, ক্যালিফর্নিয়ার দক্ষিণের জেলাগুলিকে সে ভাবে গড়ে তুলতে, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দারা গানের শহর বানিয়েছিলেন। 

এ বারের গ্র্যামিতে তাঁর তৈরি ‘ভিকট্রি ল্যাপ’ সেরা র‌্যাপ অ্যালবাম-এর ক্যাটেগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিল। এটাই ছিল সে অর্থে তাঁর প্রথম গোছানো অ্যালবাম। তার আগে অন্তত ছ’বছর নানা স্তরে নানা হেনস্থা সহ্য করতে হয়েছে নিপসিকে।