মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে ফের আটকে পড়ছেন হাঁসখালির মুড়াগাছা এলাকার ছ’জন। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, যে কাজের নাম করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই কাজ তাঁদের দেওয়া হয়নি। তার বদলে দেওয়া হয়েছে কুলির কাজ। লরি থেকে সারের বস্তা মাথায় করে নামাতে হচ্ছে তাঁদের। কেড়ে নেওয়া হয়েছে পাসপোর্ট ও ভিসা। ফলে চাইলেও তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।     

মাস কয়েক আগে হাঁসখালিরই হরিণডাঙা গ্রামের আট জন আফ্রিকার তানজানিয়ায় কাজে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁদের ফেরানো সম্ভব হয়েছিল। এ বার যাঁরা আটকে পড়েছেন বলে অভিযোগ, তাঁরা হলেন: শিবচন্দ্রপুরের অরবিন্দ মণ্ডল, মুড়াগাছা কলোনির সমীর বিশ্বাস, বলাই ব্যাপারী, বিশ্বজিৎ হালদার, বড় মুড়গাছার মোশারফ মণ্ডল ও উত্তম মিস্ত্রি। পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১২ নভেম্বর তাঁরা স্থানীয় দালাল নোশো তালুকদার ও রাহুল মণ্ডলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কাজে যান। তার জন্য প্রত্যেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কারখানায় দিনে আট ঘণ্টার কাজ দেওয়া হবে। আর চাইলে বাড়তি পারিশ্রমিকে তিন ঘণ্টা ‘ওভারটাইম’। 

ছ’জনের পরিবারের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় তাঁদের এক জনের কাছে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়। রাখা হয়েছে একটি ছোট্ট ঘরে। ঠিক মতো খাবার দেওয়া হয় না। ভোর ৬টার সময়ে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ফিরিয়ে আনা হয় রাত ১০টা নাগাদ। স্থানীয় পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকাও নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে নিজেদের অবস্থার কথা ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে পাঠিয়েছেন তাঁরা। সেখানে নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ভিডিয়োয় অরবিন্দ-সমীরেরা অভিযোগ করছেন, “ওরা আমাদের ঠকিয়েছে। এখানে আমাদের উপরে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমাদের যেমন করে হোক ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।” আটকে থাকা মোশারফ মণ্ডলের দাদা মিজানুর মণ্ডল বৃহস্পতিবার বলেন, “ওরা খুবই কষ্টে আছে। আমরা পুলিশ আর মহকুমাশাসককে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।’’ জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত বলেন, “ওঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”