নতুন মামলা। ফের নতুন দাবি। পর্ন-তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের এ বার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক গোপন রাখার জন্য কোনও চুক্তিই হয়নি। 

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টেট কোর্টে মঙ্গলবার স্টর্মির (আসল নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড) আইনজীবী তেমনটাই জানিয়েছেন। সেখানে ট্রাম্পের হয়ে সই করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন। 

নতুন মামলাপত্রে স্টর্মি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্প বসার কয়েক বছর আগে থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ছিল। মামলায় রয়েছে, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে যোগ দিয়েছেন, সেই সময়ে বহু মহিলাই তৎকালীন রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে অনেক কিছু বলতে শুরু করেছেন। স্টেফানিকে সে যাত্রা আটকে দিয়েছিলেন কোহেনই। এই সূত্রে আরও দাবি, কোনও গোপন চুক্তিতে সই না করা সত্ত্বেও কোহেন এমন ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার স্টেফানির আইনজীবীর অ্যাকাউন্টে চলে যায়। ওই মামলার নথিতে রয়েছে, কোহেন এর পরেও স্টেফানির মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতেও এই ঘটনা ঘটেছে। 

আরও পড়ুন: অস্ত্রে অরুচি, না পাল্টা চাপ

মামলাপত্রের বক্তব্য, ‘‘স্পষ্ট কথায় বলতে গেলে স্টেফানিকে যে ভাবেই হোক চুপ করাতে এবং ট্রাম্পের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগেও (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্পের আইনজীবী কোহেন লস অ্যাঞ্জেলেসে স্টেফানির মুখ বন্ধ করার লক্ষ্যে গোপনে অর্থহীন বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করিয়েছেন। এ ব্যাপারে স্টেফানিকে কোনও নোটিস পর্যন্ত পাঠানো হয়নি।’’ ওই বিচার প্রক্রিয়ায় কোহেনের পক্ষে যে আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁকে প্রশ্ন করলেও জবাব মেলেনি।

এক মার্কিন পত্রিকা জানুয়ারিতে ফাঁস করে, ভোটের আগে মুখ বন্ধ রাখতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল পর্নস্টার স্টর্মিকে। ট্রাম্পের হয়ে কাজটি সেরেছিলেন তাঁর আইনজীবী কোহেন। গত মাসে কোহেনও এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তিনিই স্টেফানিকে অর্থ দিয়েছিলেন। বিবৃতিতে কোহেন বলেন, দল বা প্রচার শিবিরের কেউ এতে জড়িত ছিল না। আর সেই অর্থ তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ। 

কিন্তু কোহেনের এই বিবৃতি সম্পর্কে স্টেফানির নয়া মামলাপত্রে বলা হয়েছে, ‘পর্ন তারকার কোনও রকম সম্মতি ছাড়াই ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন কোহেন। আর যেখানে কোনও চুক্তি হয়নি, সেখানে কোহেনের অবস্থানই প্রশ্নসাপেক্ষ।’