ক্যামেরার সামনে বসে বছর একুশের সমাজবিদ্যার ছাত্র। গলা কাঁপছে আতঙ্ক আর অপমানে। সমাজের ভয়াবহ ছবিটা বর্ণনা করতে গিয়ে বিধ্বস্ত চেহারা। দীর্ঘদিন পুলিশি ‘শাসনে’ ছিলেন তিনি। ছাত্র ইউনিয়ন করেন যে। অপরাধ সেটাই।

বেশ কিছু দিন ধরে কিউ ঝানশুয়ানের উপরে চাপ দিচ্ছিল বেজিং পুলিশ। ছাত্র-রাজনীতি ছাড়তে হবে। পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠেও ইতি টানতে হবে। কারণ ওখানে গিয়েই ইউনিয়নে নাম লেখানো। কথা শোনেননি কিউ। ‘শিক্ষা’ দেয় পুলিশ। চার দিন ধরে চলে ‘পাঠ’। মারতে মারতে নাক ফাটিয়ে দেয় কিউয়ের। কানে হেডফোন লাগিয়ে জোরে চালিয়ে দেওয়া হয় চিনা সরকারি নীতির অডিয়ো রেকর্ড। শেষ দিন নগ্ন করে হাত-পা বেঁধে টেবিলের তলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সামনেই চলে কুৎসিত রসিকতা, ‘‘কথা না শুনলে, কী ভাবে কথা কানে ঢোকাতে হয়, জানি।’’ এই সবটা চলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বাকি পড়ুয়াদেরও যে ‘শিক্ষা’ দিতে হবে। কিউয়ের পথ যাতে তাঁরা অনুসরণ না করেন।

ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। ক্যামেরার সামনে বসে পুলিশি অত্যাচারের কথাগুলো বলেছিলেন তরুণ। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সম্প্রতি। কিউ বলেছিলেন, ‘‘যদি আমি নিখোঁজ হয়ে যাই, জানবেন এদের (পুলিশের) জন্য।’’ ২৯ এপ্রিল থেকে আর খোঁজ নেই কিউয়ের। তাঁর এক বন্ধু জানিয়েছেন, ওই দিন ছাত্রনেতা কিউকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। 

গত আট মাস ধরে চিনা শাসক দল ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর জুড়ে তৈরি হওয়া একের পর এক ক্লাব বন্ধ করে দিচ্ছে তারা। কারণ ক্লাবগুলোকে ঘিরেই শুরু হয়েছে ছাত্র রাজনীতি। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে ছাত্ররা সরকারের দুর্নীতি, কর্মীদের শোষণ, সামাজিক বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের এমন অন্তত ২১ জন সদস্য হয় গৃহবন্দি নয়তো স্রেফ উধাও। যেমন কিউ। 

সরকার অবশ্য নিরুত্তর।