বিমানে যাতায়াত করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারত। কিনতে চেয়েছিল বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি। এতদিনে তাতে রাজি হল ওয়াশিংটন। ১৯ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতকে ওই বিশেষ প্রযুক্তি বিক্রি করবে তারা। যা হাতে পেলে বিমানযাত্রার সময় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা আরও আঁটোসাটো করা যাবে। এতে নিজেদের বিদেশ নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাবস্থাও সুদৃঢ় হবে। আবার ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কেরও উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন

বুধবার মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সে দেশের ডিফেন্স সিকিয়োরিটি কোঅপারেশন সংস্থা (ডিএসসিএ) জানায়, ১৯ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতকে বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি বিক্রি করা হবে। যার মধ্যে একটি হল লার্জ এয়ারক্র্যাফ্ট ইনফ্র্যারেড কাউন্টারমেসারস (এলএআইআরসিএএম)। আর অন্যটি হল সেল্ফ প্রোটেকশন স্যুটস (এসপিএস)। একাধিক সেন্সর যুক্ত এলএআইআরসিএএম প্রযুক্তির কাজ হল, কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে বিমানকে রক্ষা করা। ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপদের সঙ্কেত পাওয়া মাত্র এলএআইআরসিএএম প্রযুক্তি সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়। বিমান লক্ষ্য করে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে আসছে কিনা তাও আগাম জেনে যায়। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং ধ্বংস করার পর পাইলটকে সঙ্কেত পৌঁছে দেয়।  

প্রধানমন্ত্রী হোন বা রাষ্ট্রপতি, ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানরা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানেই যাতায়াত করেন। বাকি সময়ে ওই বিমান যাত্রী পরিবহণের কাজেও ব্যবহৃত হয়। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার যে দুই এলএআইআরসিএএম ৭৭৭-এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি এলএআইআরসিএএম বসানো হবে, সেগুলি এয়ার ইন্ডিয়ার থেকে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির। যাতে অন্য কোনও কাজে সেগুলি ব্যবহার করা না যায়। নয়া প্রযুক্তি বসার পর এয়ার ইন্ডিয়ার ওই দুই বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যবহৃত এয়ার ফোর্স ওয়ানের সমতুল্য হয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি পেন্টাগনের।

আরও পড়ুন: মহাভেজাল!‘কলকাতায় যাঁরা এক, কেরলে তাঁদের মুখ দেখাদেখি হবে না’, বললেন মোদী

ভারতের আঞ্চলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখে এসপিএস প্রযুক্তি বিক্রি করছে মার্কিন সরকার। দেশের যে যে এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলিকে রক্ষা করার দায়িত্ব এসপিএস-এর। মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুটি ৭৭৭ বোয়িংকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে এএন/এএকিউ-২৪(ভি)এন এলএআইআরসিএএম, এএলকিউ-২১১(ভি)-৮ অ্যাডভান্সড ইন্টেগ্রেটেড ডিফেন্স ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট (এআইডিইডব্লিউএস) এবং এএন/এএলই-৪৭ কাউন্টার মেজ়ার্স ডিসপেন্সিং সিস্টেম(সিএমডিএস)-এর কিনতে চেয়েছে ভারত। তার সঙ্গে দেওয়া হবে ১২টি গার্ডিয়ান লেজ়ার ট্রান্সমিটার অ্যাসেম্বলিজ এএন/এএকিউ-২৪(ভি)এন। যার মধ্যে ৬টি ইনস্টল করা থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে আরও ৬টি।

প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে থাকবে এলএআইআরসিএএম প্রযুক্তির ৮টি রিপ্লেসমেন্ট। যার মধ্যে ২টি ইনস্টল করা থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য থাকবে ৬টি। ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী সেন্সর দেওয়া হবে। তার মধ্যে ১২টি ইনস্টল করা থাকবে। হাতে  থাকবে আরও ১১টি। ৫টি এএন/এএলই-৪৭ কাউন্টার মেজ়ার্স ডিসপেন্সিং সিস্টেম থাকবে। যার মাধ্যমে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের নজরের বাইরে চলে যাওয়া সম্ভব হবে। আবার শত্রুপক্ষের নজরদারির মধ্যে এলে পাইলটকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য থাকবে অ্যাডভান্সড ইন্টেগ্রেটেড ডিফেন্সিভ ওয়ারফেয়ার স্যুটস। তবে ভারতের হাতে উন্নত প্রযুক্তি এলেও, এতে ভারতীয় উপমহাদেশীয় অঞ্চলের সামরিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। 

আরও পড়ুন: ধর্নায় যোগ দেওয়ার অভিযোগ, পদক কেড়ে নিয়ে ৫ আইপিএসকে শাস্তি দেওয়ার পথে কেন্দ্র​

প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্রের জন্য মূলত রাশিয়ার উপরই নির্ভরশীল ভারত। ইজরায়েল থেকেও অস্ত্রশস্ত্র আমদানি করা হয়। তবে ইজরায়েলকে ছাপিয়ে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালে ভারতকে স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশন-১ স্ট্যাটাস দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। যার আওতায় সহজেই তাদের থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা যাবে। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতই তৃতীয় দেশ, যাদের এই মর্যাদা দিয়েছে মার্কিন সরকার।