ঘুম থেকে উঠে ফোনের দিকে তাকাচ্ছেন। তার পরে কর্মক্ষেত্রে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। দিনের শেষে ঘুমোতে যাওয়ার সময়েও তাকিয়ে থাকছেন ফোনের দিকে। আর এই সবক’টি অভ্যাসই স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি গতিতে বাড়িয়ে দিচ্ছে ত্বকের বয়স। এই ক্ষতির জন্য দায়ী ডিজিটাল পর্দা থেকে নির্গত ব্লু লাইট। আর এর জন্য যে অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ছে ত্বকে তাকেই বলা হচ্ছে ডিজিটাল এজিং।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি যেমন ত্বকে দীর্ঘক্ষণ পড়লে তা ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে কালচে ছোপ ফেলে দেয়, ব্লু-লাইট তার চেয়েও গভীরে গিয়ে ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিন নষ্ট করে দেয়। ফলে চামড়া ঝুলে যাওয়া, বলিরেখা পড়া এবং মেছতার মতো কালো দাগ দেখা যায় ত্বকে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ফোনের উজ্জ্বল আলো মুখে পড়লে তা ত্বকের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।
১. ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন ব্যবহার
সাধারণ সানস্ক্রিন শুধু ইউভি রশ্মি আটকায়। ব্লু-লাইট থেকে বাঁচতে এমন সানস্ক্রিন বেছে নিন যাতে জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড আছে। আয়রন অক্সাইড যুক্ত ‘টিন্টেড’ সানস্ক্রিন ব্লু-লাইট রুখতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
২. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ সিরাম
সকালে মুখ ধোয়ার পরে ভিটামিন সি, ফেরুলিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করুন। এগুলি ত্বকের ওপর কবচের মতো কাজ করবে।
৩. ডিভাইসে 'নাইট মোড' বা 'ব্লু-লাইট ফিল্টার'
প্রযুক্তি দিয়েই প্রযুক্তিকে ঠেকান। ফোন এবং ল্যাপটপে নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার অপশনটি সব সময় চালু রাখুন। এটি স্ক্রিনের নীল আভা কমিয়ে উষ্ণ বা হলদেটে আভা তৈরি করে, যা ত্বক এবং চোখের জন্য কম ক্ষতিকর।
৪. আই ক্রিম ব্যবহার
চোখের চারপাশের চামড়া সবচেয়ে পাতলা, তাই ব্লু-লাইটের প্রভাব সেখানেই বেশি পড়ে। তাতে চোখের নীচে কালি বা বলিরেখা পড়তে পারে। ক্যাফিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি ভাল মানের আই ক্রিম ব্যবহার করলে ডিজিটাল স্ট্রেস থেকে চোখ ও তার চারপাশের ত্বক বাঁচবে।
৫. দূরত্ব বজায় রাখা ও স্ক্রিন টাইম কমানো
ত্বক থেকে স্ক্রিনের দূরত্ব যত বেশি হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত কমবে। অন্তত ২০-৩০ ইঞ্চি দূরত্বে ল্যাপটপ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এছাড়া ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোনের ব্যবহার বন্ধ করলে ত্বকের কোষগুলো রাতে নিজেকে সারিয়ে তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে।