×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৩ মে ২০২১ ই-পেপার

ভিন্‌দেশির স্টেম সেলে প্রাণে বাঁচল কেরলের কিশোরী

সংবাদ সংস্থা
কোচি ০১ জুন ২০১৫ ০৩:৫৫

এক জন থাকেন জার্মানিতে। অন্য জন ভারতে। এক জনের বয়স ৫৫। অন্য জনের ১৬। সারা জীবনে হয়তো তাদের কোনও দিন দেখাও হত না। আলাপ তো দূরস্থান। কিন্তু দেশের গণ্ডি টপকে বন্ধুত্ব হল তাদের। এক জনের পরশে প্রাণ পেল অন্য জন।

রক্তে ক্যানসার নিয়ে বহুদিন ধরেই ভুগছিল কেরলের ১৬ বছরের কিশোরী। চিকিৎসকেরা জানিয়েও দিয়েছিলেন, মারণরোগটি পৌঁছে গিয়েছে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। কিন্তু শেষমেশ তাকে বাঁচিয়ে দিলেন জার্মানির এক বাসিন্দা। কোনও ভারতীয়ের সঙ্গে না মিললেও,
৫৫ বছরের সেই জার্মান ব্যক্তির সঙ্গে মিলে গেল মেয়েটির স্টেম সেল। আর তাই জার্মানি থেকেই উড়ে এল সেই বিশেষ কোষ। প্রাণ ফেরাল কিশোরীর।

মাইলোয়েড লিউকেমিয়ায় ভুগছিল মেয়েটি। রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে যে টিস্যু (কলা কোষ), তার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলেই এই ধরনের ক্যানসার হয়। মেয়েটির চিকিৎসক সিদ্ধার্থন জানিয়েছেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ক্ষীণ। তাকে বাঁচানোর এক মাত্র উপায় স্টেম সেল প্রতিস্থাপন।

Advertisement

কী এই স্টেম সেল? এটি একটি বিশেষ ধরনের কোষ যা থেকে যে কোনও ধরনের কোষ তৈরি হতে পারে। যেমন, পেশি, হৃদযন্ত্র, রক্ত বা চামড়া— যে কোনও কোষই জন্ম নিতে পারে স্টেম সেল থেকে। মূলত বোন ম্যারো বা অস্থি মজ্জা থেকেই পাওয়া যায় এই স্টেম সেল।

মেয়েটির প্রাণ বাঁচাতে খোঁজ পড়ে স্টেম সেল দাতার। এগিয়ে এসেছিলেন প্রায় সত্তর হাজার ভারতীয়।
কিন্তু কারও সঙ্গেই মেলেনি মেয়েটির স্টেম সেল। তা হলে উপায়? স্টেম সেল প্রতিস্থাপনই তো মেয়েটিকে আবার সারিয়ে তোলার এক মাত্র পথ।

এর পর আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারস্থ হয় মেয়েটির পরিবার। আর তখনই উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে ভাগ্যের চাকা। ৫৫ বছরের জার্মানির এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে যায় ১৬ বছরের কিশোরীর স্টেম সেল। বোন ম্যারো দানের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে আলাদা করা হয় স্টেম সেল। তার পর তা বিমানে চেপে ডুসেল়ডর্ফ-কোলন-আবু ধাবি হয়ে নামে কোচির বিমান বন্দরে।

আর এ দিকে, তখন হাসপাতালে অপেক্ষা করছে মেয়েটি। প্রতিস্থাপনের আগে তার বিশেষ কিছু শারীরিক পরীক্ষাও হয়ে গিয়েছে। প্রতিস্থাপনের পরে যাতে তার দেহে অন্য কোনও প্রতিক্রিয়া না হয়, সে
জন্য কেমোথেরাপির ওষুধও দেওয়া হয়েছিল মেয়েটিকে। অবশেষে সিদ্ধার্থনের অধীনে এক দল চিকিৎসক সেই অস্ত্রোপচার সম্ভব করেন। নতুন জন্ম হয় মেয়েটির।

কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। দেখা দিতে পারে পারে মারাত্মক জ্বর বা চামড়ার রোগ। কিন্তু সিদ্ধার্থন বলেছেন, ‘‘ও মাঝেমাঝেই আসে আমার কাছে। এখন বেশ সুস্থ।’’ তবে সেই
সঙ্গে আক্ষেপের সুরও শোনা গিয়েছে সিদ্ধার্থনের গলায়। তিনি বলেছেন, ‘‘এ দেশে ১২৫ কোটি মানুষের
মধ্যে মাত্র এক লক্ষ জন বোন ম্যারো দান করার জন্য সই করেছেন। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বেশ সহজ অস্ত্রোপচার এটি। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই বোন ম্যারো দান করে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেতে পারে যে কেউ। আর বাঁচাতে পারে কত জনকে।’’ এবং কেরলের কিশোরীর মতো আরও অনেকেই ফিরে
আসতে পারে জীবনে।

Advertisement