একটা সুন্দর হাসি যে কারও দিনের শুরুটা আনন্দমুখর করে তুলতে পারে। এক মুহূর্তের জন্য হলেও ভুলিয়ে দিতে পারে সব ক্লান্তি আর হতাশা। হাসি যে শুধুমাত্র আপনার সৌন্দর্য্য বাড়ায় তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিত্বও বর্ণনা করে। আর আপনার হাসিকে সুন্দর করার সবচেয়ে বড় ভুমিকা আপনার দাঁতের।

সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর দাঁত সকলেই চান। দাঁতের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্নের। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যার ফলে তৈরি হয় দাঁতের নানান সমস্যা। হাতে সময় কম, তাই দাঁতের পরিচর্যা করা যাবে না এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। জানেন, খুব অল্প সময় নারকেল তেলের ব্যবহারে আপনি পেয়ে যেতে পারেন স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর দাঁত!

নারকেল তেল যেমন চুল ও ত্বকের পরিচর্যার জন্য অসাধারণ কাজ করে, ঠিক তেমনই দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও দারুন কাজ করে। কী কী ভাবে নারকেল তেল দাঁতের উপকার করে রইল তার হদিস।

আরও পড়ুন: বদহজম-অম্বল থেকে চর্মরোগ, সত্যিই ভিলেন লিভার? অসুখ এড়াবেন কী করে

নারকেল তেলে থাকা স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

দাঁতকে জীবাণু এবং সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে: নারকেলের শাঁসে থাকে প্রচুর পরিমাণ স্যাচুরেটে়ড ফ্যাট। আর এর থেকে নিঃসৃত তেলে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি। নারকেল তেলে লরিক অ্যাসিডের রূপে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড। এই অ্যাসিড শরীরকে নানা দিক থেকে উপকৃত করে থাকে। নারকেল তেল শরীরে প্রবেশ করার পর এর মধ্যে থাকা লরিক অ্যাসিড ভেঙ্গে মনোলরিনে পরিণত হয়। এই লরিক অ্যাসিড ও মনোলরিন উভয়ই ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নারকেলে থাকা অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান মুখের ভিতরে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া আটকায় এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যার সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: আপনার ত্বক রাখুন টম্যাটোর পরিচর্যায়

দাঁত ও মাড়ি মজবুত করে: অনেক সময়ই আমাদের অনিয়মিত খাদ্যাভাসের জন্য দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দেখা দেয়। মাড়ি ফুলে যাওয়া বা মাড়িতে প্লাক জমার ফলে ব্যথার সৃষ্টি হয়, যা হজমেও প্রভাব ফেলে। ফোলা অংশে নারকেল তেল লাগালে এই সমস্যার উপশম হয়। এ ছাড়া নারকেল তেলে থাকা স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

দাঁত সংক্রান্ত ছোটখাটো সমস্যা হলে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই তা নিরাময় সম্ভব। তবে গুরুতর সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।