হিন্দু পুরাণে যা বিষ, যৌন অপরাধী এপস্টিনের কাছে তা-ই অমৃত!
কারণ, সেই ‘বিষ’-এর সাহায্যই অনিচ্ছুক নারীকে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করাতে পারতেন তিনি। আর তাই বাড়ির বাগানে চাষ করতেন এক বিশেষ ফুলের। যে ফুল হিন্দু পুরাণে বিশেষ তাৎপর্যবাহী।
এপস্টিন ফাইল থেকে যে সমস্ত তথ্য ক্রমশ বাইরে আসছে এবং হতবাক করছে বিশ্বকে, তার মধ্যে এটিও একটি। এপস্টিনের কাছে আসা ইমেল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ির বাগানে এক বিশেষ ধরনের ফুল চাষ করা হত। যার নাম ‘ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার’। যে প্রসঙ্গে একটি ইমেলে এপস্টিন নিজেই লিখেছেন, ‘‘আস্ক ক্রিস অ্যাবাউট মাই ট্রাম্পেট প্ল্যান্টস অ্যাট নার্সারি।’’ যার বাংলা অর্থ— ‘‘ক্রিসকে জিজ্ঞাসা করো আমার বাগানের ট্রাম্পেট গাছের কথা।’’
ট্রাম্পেট এক ধরনের বাঁশি, যার মুখের চোঙাটি অনেক বড়। বাকি অংশটি ধীরে ধীরে সরু হয়ে নীচে নামে। এক বিশেষ হিন্দু দেবতার পুজোয় ঠিক একই ধরনের দেখতে ফুল কাজে লাগে। এপস্টিনকে পাঠানো এক ইমেলে ওই ফুলের গুণের কথাও সবিস্তার বলা হয়েছে। ওই ফুলটিকে সেই ইমেলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘স্কোপোল্যামাইন’ নামে। যা এক ধরনের ‘বিষ’। যা ওই ফুলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ইমেলে লেখা হয়েছে— ‘‘স্কোপোলামাইন, কলম্বিয়ার বনে ওই জোরালো ভেষজের চাষ হচ্ছে। যা মানুষের নিজের ইচ্ছে প্রকাশের ক্ষমতাকে বিকল করে দেয়।’’
ফুলের নাম ধুতরো। এই ফুলে ন্টিকোলিনার্জিক ট্রোপেন অ্যালকালয়েড স্কোপোলামাইন নামের বিষাক্ত পদার্থ প্রচুর পরিমাণে থাকে। যা কোনও মানুষের শরীরে গেলে সরাসরি আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে। ফলে যাঁকে দেওয়া হচ্ছে, তিনি কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হারিয়ে ফেলেন চলৎশক্তি। এপস্টিনকে পাঠানো ইমেলে অ্যান্টোইন ভার্গলাস নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘‘যাকে দেবে তার নিজের ইচ্ছে বলে কিছু থাকবে না। সে পুতুলের মতো হয়ে যাবে বা শিশুর মতো। যা বলবে তা-ই করবে। যেখানে নিয়ে যেতে চাইবে সে খানেই যাবে। ’’
ধুতরো ফুলের ওই বিষ যে এপস্টিনের কবলে পড়া মহিলাদের দেওয়া হত, তা খোলসা করে এক ইমেলে জানিয়েছেন এক নির্যাতিতাও। তিনি বলছেন, ‘‘আমাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ওরা বলাবলি করছিল স্কোপোল্যামাইনের কথা। এক ব্যক্তি বলছিল—
—আমি ওকে অনেকটা স্কোপোল্যামাইন দিয়েছি।
দ্বিতীয় জন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল আমাকে নড়াচড়া করতে দেখে। আসলে ছোট থেকেই ওই বিষের সঙ্গে আমার পরিচয়। তাই হয়তো যতটা প্রভাব পড়া উচিত ছিল তা পড়েনি আমার উপর। ওদের উদ্বেগ দেখে আমি ঘুমনোর ভান করি। ফলে পুরোটা শুনতে পাচ্ছিলাম।’’
(এই খবরটি সবেমাত্র দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত খবরটি কিছু ক্ষণের মধ্যেই আসছে। অপেক্ষা করুন। পাতাটি কিছু ক্ষণ পর পর রিফ্রেশ করুন। আপডেটেড খবরটি আপনি দেখতে পাবেন। অতি দ্রুততার সঙ্গে আপনার কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার সময়েও আমরা খবরের সত্যাসত্য সম্পর্কে সচেতন। সেই জন্যই যে কোনও ‘খবর’ পাওয়ার পর, তার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই আমরা তা প্রকাশ করি। ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবরের রমরমার সময়ে এটা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে)