কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ‘রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার’-এ পুড়ে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে কয়েক দিন আগে। শুক্রবার প্রসবের সময় গলায় নাড়ি জড়িয়ে দমবন্ধ হয়ে শিশু মারা গেল হাওড়া জেলা হাসপাতালে।
চিকিৎসার গাফিলতিতেই ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাসপাতাল-চত্বরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান প্রসূতির আত্মীয়স্বজন। হাতাহাতিও হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিয়া বিট নামে হাওড়া ইছাপুরের এক তরুণী প্রসবের জন্য ভর্তি হন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, রাতে ওই প্রসূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও কোনও চিকিৎসক বা নার্স তাঁকে দেখতে আসেননি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসকেরা তাঁর প্রসবের ব্যবস্থা করেন। তরুণীর স্বামী অমর বিট বলেন, ‘‘সকালে গিয়ে দেখি, যন্ত্রণায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে রিয়া। আমি চিকিৎসককে অস্ত্রোপচার করতে অনুরোধ করি। কিন্তু চিকিৎসক স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করেন। তার পরেই হাসপাতাল জানায়, আমার সন্তান মারা গিয়েছে।’’
প্রসূতির পরিবারের লোকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। চিকিৎসকেরা সুপারের ঘরে আছেন শুনে সেখানে গিয়েও বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওই প্রসূতির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক বাইরে এলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। অভিযোগ, চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে। রক্ষীরা তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মারপিট বেধে যায়। প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, রক্ষীরা তাঁদের যথেচ্ছ লাথি-ঘুষি মেরেছে। জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে।
হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস বলেন, ‘‘এটা ঠিকই যে, আমরা সিজার না-করে প্রথমে নর্মাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু স্বাভাবিক প্রসবের সময় দুর্ভাগ্যবশত শিশুটির গলায় নাড়ি জড়িয়ে যায়। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। এতে কারও দোষ নেই। এমন ঘটনা যাতে আর না-ঘটে, সে-জন্য চিকিৎসকদের আরও সতর্ক হতে বলেছি।’’