যখন তখন তাঁদের উপর হামলা হয়। মানুষ বলে গণ্যই করা হয় না। তার উপর শুরু হয়েছে পুলিশি ধরপাকড়। এর থেকে বাঁচতে তাই ধর্ম বদলে নিল উত্তরপ্রদেশের ১৮০টি দলিত পরিবার!

উত্তরপ্রদেশের রুপদি, এগরি এবং কাপুরপুর গ্রামের মোট ১৮০টি দলিত পরিবার ধর্ম বদলে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করলেন। দলিত থেকে বৌদ্ধ হলে তাঁদের উপর সামাজিক নির্যাতন বন্ধ হবে, আর তার ফলে পুলিশের হাত থেকেও রেহাই মিলবে। সে কারণেই এই ধর্মান্তরকরণ বলে জানিয়েছে দলিতদের সংগঠন ভিম সেনা।

বছর খানেক ধরেই দলিত সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতন বেড়েছে। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় উত্তরপ্রদেশে এই নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ঠাকুর এবং দলিতদের মধ্যে ঝামেলা ব্যাপক আকার ধারণ করে। গত তিন সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশ। দলিতের সংগঠন ভিম সেনার সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে ঠাকুরের। গত তিন সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের শাবিরপুর এবং তার আশেপাশের গ্রামের ৬০টি দলিত বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঠাকুরদের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর করা হয় ২৩টি গাড়িতে।

আরও পড়ুন: জিডিপি যাই হোক, চাকরি বেড়েছে যৎসামান্য, বলছে কেন্দ্রীয় সমীক্ষা

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিবাদে ফেসবুক এবং হোয়াটস‌্অ্যাপে দলিতদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে প্রচার শুরু করে ভিম সেনা। ভিম সেনার সভাপতি চন্দ্রশেখর দলিতদের উপরে উচ্চবর্ণের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যাতে প্রায় সারা দেশের ৪০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যেও এই সংগঠন প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। ভিম সেনার এই গড়ে তোলা প্রতিরোধে আরও ভয়ানক আকার নেওয়ার সম্ভাবনা দেখছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাই পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ভিম সেনার ৩৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৪টা অভিযোগ দায়ের হয় ভিম সেনার বিরুদ্ধে। খোঁজ চলছে ভিম সেনার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রশেখরের। পুলিশের হাত থেকে নিস্তার পেতেই তাই নাকি ধর্ম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই সমস্ত দলিত পরিবার।

ভিম সেনার জাতীয় সভাপতি বিনয় রতন সিংহ বলেন, ‘‘পুলিশ শুধুমাত্র আমাদেরই টার্গেট করছে। বেছে বেছে আমাদের সদস্যদের গ্রেফতার করছে। অথচ ঠাকুদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটা ষড়যন্ত্র। মানুষ ভয় পাচ্ছেন। আর সেই ভয় থেকেই ধর্ম বদলে নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।’’ তিনি জানান, এই ধর্মান্তরকরণ সূচনা। তাঁদের মানুষ হিসাবে গণ্য করা না হলে আরও অনেকেই এইভাবে ধর্ম বদলে নেবেন।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অবশ্য এই ধর্মান্তরকরণকে উদ্বেগের বলে মনে করছে না। এই বিষয়ে সাহারানপুরের এসএসপি এসসি দুবে বলেন, ‘‘কে কোন ধর্ম গ্রহণ করবেন তা সেই ব্যক্তির নিজস্ব ভাবাবেগ। তবে এই ভাবে গ্রেফতারি এড়ানো যাবে না। ভিম সেনার সভাপতি চন্দ্রশেখরকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করা হবে।’’