প্রচার থেমে গিয়েছিল সোমবার বিকেল ৫টায়। বুধবার ভোটও হয়ে গেল মধ্যপ্রদেশে। কিন্তু ‘রাম-নাম’ থামার নাম নেই। ভোটের দিনেও গোটা মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ঝপাঝপ ছাপ পড়ল ‘রাম-নামে’। ভারতীয় রাজনীতিতে রাম মূলত যে দলের মূলধন, সেই বিজেপি-ই শুধু নয়, মধ্যপ্রদেশে প্রায় সমানতালেই ‘রাম-নাম’-এরআশ্রয় নিল কংগ্রেস। এবং পরিস্থিতি যে রকম, তাতে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ‘রাম-নাম’ কিছুতেই থামবে না। কার ‘রাম’ কত শক্তিশালী, তা নিয়েই চলতে থাকবে বিতণ্ডা।

২৩০টা আসন মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায়। সব আসনের জন্যই ভোট হয়ে গেল বুধবার। আর নির্বাচন কমিশনের তালিকা জানিয়ে দিল— ২২৭ জন ‘রাম’ এ বারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাসক বিজেপি তো বটেই, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকাতেও রাম নামধারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিজেপির ১৩ জন প্রার্থীর নামে ‘রাম’ শব্দ রয়েছে। আর কংগ্রেসও প্রায় সেয়ানে সেয়ানে টক্কর নিয়ে ১২ জনকে ময়দানে নামিয়েছে, যাঁদের নামে রাম বিদ্যমান।

রামনামের এই টক্করে সবচেয়ে নজর কাড়তে পারে বিজয়পুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে বিজেপির প্রার্থী সীতারাম। আর কংগ্রেস প্রার্থীর নাম রামনিবাস রাওয়ত। বিজেপি কর্মীরা হালকা মেজাজে বলছেন, রামনিবাস জিততে পারবেন না। কারণ সীতাকে ছাড়া রাম অসম্পূর্ণ। আমাদের প্রার্থীর নামে সীতাও রয়েছেন, রামও রয়েছেন। ওঁদের শুধু রাম। অতএব এগিয়ে আমরাই।

অশোকনগর আসনে লড়ছেন বিজেপির লড্ডুরাম কোরী। অমরপাটনে রামখিলাবন পটেল। অনুপপুরে রামলাল রৌতেল। নিবাস বিধানসভা কেন্দ্রে রামপেয়ারে কুলস্তে। পরসওয়াড়ায় রামকিশোর কাঁবরে। পান্ঢুর্নায় টিকারাম। ঘোড়াডোঙ্গরিতে গীতারামজিলাল উইকে। উদয়পুরা কেন্দ্রে রামকিশন পটেল। সিলবানীতে রামপাল সিংহ। হুজুর আসনে রামেশ্বর শর্মা। পন্ধানায় রাম ডোঙ্গরে এবং কসরাবতে আত্মারাম পটেল।

আরও পড়ুন- শিবরাজের তরী বাঁচবে তো? ভোটের চিন্তায় স্বস্তিতে নেই অমিত​

আরও পড়ুন- রাম-ভক্ত হনুমান দলিত, আদিবাসী ছিলেন, রাজস্থানে ভোটপ্রচারে বললেন যোগী​

এ বার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক কংগ্রেসের রাম-নামে। কোলারস কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীর নাম রামসিংহ যাদব। হরদায় রামকিশোর ডোগনে। পিপরিয়ার কংগ্রেস প্রার্থীর নামে রাম নেই কিন্তু পদবীতে রয়েছেন— হরীশ তুলারাম। সাঁচীতে প্রভুরাম চৌধরি। শাজাপুরে রামবীর সিংহ। রাজপুরে বলারাম। সাঁবের কেন্দ্রে তুলসীরাম সিলাবট। ঘট্টিয়ায় রামলাল মালব্য এবং মল্হারগড়ে পরশুরাম।

বিজেপি-কংগ্রেসের সম্মিলিত রামের সংখ্যা ২৭। কিন্তু এই দুই প্রধান দলকে বাদ যাঁরা বাকি থাকেন, রাম-নামে তাঁরা কিন্তু দুশো গোল দিয়ে দিয়েছেন শিবরাজ-কমল নাথকে। ছোটখাট দলের প্রার্থী এবং নির্দল প্রার্থীদের তালিকায় চোখ রাখলে আরও ২০০ জন এমন প্রার্থীর নাম পাওয়া যাচ্ছে, যাঁদের নামে বা পদবীতে রামের উপস্থিতি রয়েছে। আর এ বারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পূর্ণ তালিকায় চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে অন্তত ৮ জন ‘সীতা’ এবং ৭ জন ‘লক্ষ্ণণ’ রয়েছেন। লড়াইয়ে রয়েছেন ২ জন ‘হনুমান’ এবং ২ জন ‘ব্রহ্মা’ও।

তবে সব পক্ষই মানছেন, কার রামের জোর বেশি, তা ভোটগণনার পরেই স্পষ্ট হবে। অপেক্ষা এখন ১১ ডিসেম্বরের। সর্বোচ্চ সংখ্যক ‘রাম’কে সঙ্গে নিয়ে কোন দল বিধানসভায় ঢুকতে চলেছে, স্পষ্ট হয়ে যাবে ১১ ডিসেম্বর বিকেলের মধ্যেই।