বর্ণময় চরিত্র। একাধারে মডেলিং, এসইউভিতে যাতায়াত। আবার কারও সঙ্গে দেখা করতে হলে পছন্দ শুধুমাত্র তাজ-দরবার। তিনি মধ্যপ্রদেশের ভইয়ুজি মহারাজ। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু। তাঁর দেহের পাশ থেকে মিলেছে সুইসাইড নোট। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে মৃত্যুর ২৩ ঘণ্টা আগের একটি সিসিটিভি ফুটেজও।সবমিলে ঘনিয়েছে রহস্য। আত্মহত্যায় কেউ তাঁকে প্ররোচনা দিয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।

বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে ভইয়ুজি মহারাজের সুইসাইড নোটের দ্বিতীয় পাতা। সেখানে তিনি লিখেছেন, নিজের কোনও আত্মীয়কে নয়, তিনি ভরসা করতেন একমাত্র বিনায়ককেই। সূর্যোদয় আশ্রমের প্রিয় সহচরই তাঁর একমাত্র ভরসা। তাই তাঁর স্থাবর, অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তির ভাগও বিনায়কেরই। কোনও রকম চাপ থেকে তিনি এ কাজ করছেন না, এমনটাও উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর নোটের ওই পাতায়। তবে বাকি পাতাগুলিতে কী লেখা রয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ ইনদওর পুলিশ।

নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১১ সালে আমদাবাদে অনুষ্ঠিত সদ্ভাবনা উপবাসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই ধর্মগুরু‌কে। মোদী উপবাস ভাঙার পর তাঁকে ফলের রস এগিয়ে দিয়েছিলেন ভইয়ুজি। ২০১৬ সালে তিনি পথদুর্ঘটনায় আহত হলে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং গুজরাতের তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন পটেল।

এই ভইয়ুজি মহারাজের আত্মহত্যার কারণ নিয়ে ধন্দে ছিল পুলিশ। তবে সুইসাইড নোট উদ্ধার হওয়ার পর এই উচ্চমানের ‘ম্যানেজমেন্ট স্কিল’ সম্পন্ন ধর্মগুরুর জীবন সম্পর্কে উঠে আসছে নানা তথ্য। নিজের স্ত্রী ও প্রথম পক্ষের কন্যা থাকা সত্ত্বেও কেন সব সম্পত্তি দান করে গেলেন প্রিয় সহচর বিনায়ককে? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

আরও খবর: মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী মধ্যপ্রদেশের ধর্মগুরু

তাজমহলের ফটকে হামলা, অভিযুক্ত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘অ্যাটাকিং কপ্টার’ অ্যাপাচে আসছে ভারতের হাতে​

ওই নোটে ভইয়ুজি  লিখেছেন, ‘‘আমার পরিবারকে দেখার মতো নিশ্চয়ই কেউ রয়েছে। আমি চলে যাচ্ছি।’’ সেই ভইয়ুজির পরিবারের দুই সদস্যের বয়ান ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। এক দিকে প্রথম পক্ষের মেয়ে কুহু। অন্য দিকে, দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী আয়ূষী। দু’জনেই পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন ভইয়ুজি ওরফে উদয় সিংহ দেশমুখের আত্মহত্যার জন্য। কুহুর দাবি, আয়ূষীর সঙ্গে বিবাহের পর থেকেই মন ভেঙে গিয়েছিল ভইয়ুজির। দাম্পত্য সম্পর্ক সুখের ছিল না। অন্য দিকে, আয়ূষীর দাবি, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না থাকায় অবসাদে ভুগতেন ভইয়ুজি। 

সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশ, ইনদওরের একটি রেস্তরাঁয় দ্বিতীয় স্ত্রী আয়ূষীর সঙ্গে মৃত্যুর ২৩ ঘণ্টা আগেও দেখা করেছিলেন ভইয়ুজি। দু’জনের মধ্যেই বহু ক্ষণ কথা হয়। ঘণ্টাদুয়েক পরই রেস্তরাঁ ছেড়ে একাই বেরিয়ে পড়েন ভইয়ুজি। পুলিশ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে আয়ূষী, কুহু দু’জনকেই। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সম্পত্তির কারণেই প্রথম পক্ষের মেয়ে ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে ভইয়ুজির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। কিন্তু রেস্তরাঁয় আয়ূষীর সঙ্গে কী নিয়ে কথা হয়েছিল ভইয়ুজির, আত্মহত্যায় কেউ তাঁকে প্ররোচনা দিয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।এতেই ঘনাচ্ছে রহস্য।

ভইয়ুজির সুইসাইড নোটের একাংশ

অনুগামীর তালিকায় ছিলেন তাবড় তাবড় হাইপ্রোফাইল সেলিব্রিটিরা। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস, শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার রাজ ঠাকরে, লতা মঙ্গেশকরকে ভরসা দিতেন যিনি, তাঁর নিজের ভরসা করার মতো কেউ ছিল না? শুধুমাত্র সহচর বিনায়ককেই ভরসা করতেন তিনি? কিন্তু কেন? তাই আত্মহত্যার কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বিনায়ককেও।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার ভইয়ুজির দেহ তাঁর বাড়িতেই রাখা রয়েছে অনুরাগীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য।