বড় ধাক্কা খেল গাঁধী পরিবার তথা কংগ্রেস। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আয়কর বিভাগকে তদন্তের অনুমতি দিয়ে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। প্রায় ২০০০ কোটি টাকা মূল্যের সংস্থাকে সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী এবং অন্য কয়েক জন শীর্ষ কংগ্রেস নেতার সংস্থা ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড মাত্র ৫০ লক্ষ টাকায় কিনে নিয়েছে বলে বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অভিযোগ। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দিতে হবে ইয়ং ইন্ডিয়ানকে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি।

ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রটিকে যে সংস্থা চালাত, তার নাম অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল)। এই এজেএল প্রায় ২০০০ কোটি টাকা মূল্যের সংস্থা ছিল বলে সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দাবি। ২০১১-’১২ অর্থবর্ষে ইয়ং ইন্ডিয়ান নামক সংস্থাটি ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে এজেএল-কে কিনে নেয়। সে সময় এজেএল-এর কাছে কংগ্রেসের প্রায় ৯০ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দেনা ছিল বলে স্বামীর দাবি। মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে এজেএল-কে কিনে ওই ৯০ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা আদায়ের অধিকারও ইয়ং ইন্ডিয়ান পেয়ে যায় বলে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আদালতকে জানান। ইয়ং ইন্ডিয়ান সংস্থাটিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী এবং সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধীর বড়সড় শেয়ার রয়েছে। তাই সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আদালতকে জানান, নামমাত্র মূল্যে এজেএল তথা ন্যাশনাল হেরাল্ডকে কিনে নিয়ে বিপুল অঙ্কের সম্পত্তির অধিকারী হয়েছে সনিয়া-রাহুলদের সংস্থা ইয়ং ইন্ডিয়ান। শুধু সনিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে শুধু নয়, এই মামলায় মোতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্ডেজ, সুমন দুবে এবং স্যাম পিত্রোদার বিরুদ্ধেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কংগ্রেসের টুইট।

আয়কর বিভাগের তদন্ত রুখতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইয়ং ইন্ডিয়ান। কিন্তু হাইকোর্ট সে আবেদন মানেনি। বিচারপতি এস মুরলীধর এবং বিচারপতি চন্দ্র শেখরের বেঞ্চ শুক্রবার ইয়ং ইন্ডিয়ানকে নির্দেশ দিয়েছে, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংক্রান্ত লেনদেনের নথি আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দিতে হবে। এর পর ইয়ং ইন্ডিয়ানের তরফে আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভিড়ে ঠাসা সুপ্রিম এজলাসে শুরু ঐতিহাসিক তিন তালাক শুনানি

সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী এবং অন্য কয়েক জন প্রবীণ কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, কংগ্রেস তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। কংগ্রেসের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, ইয়ং ইন্ডিয়ান একটি ‘নট ফর প্রফিট’ সংস্থা, অর্থাৎ এই সংস্থা লাভ করার জন্য ব্যবসা করে না। এই সংস্থা থেকে কেউই বেতন, লভ্যাংশ বা সুবিধা নেন না বলেও কংগ্রেস টুইট করে জানিয়েছে। সনিয়া গাঁধী বা রাহুল গাঁধী কোনও টাকা ইয়ং ইন্ডিয়ান সংস্থা থেকে তোলেননি বলে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার দাবি।