ঘোষিত লক্ষ্য, চলতি বছরে ২ কোটি সদস্য বৃদ্ধি। অঘোষিত লক্ষ্য, ৬ কোটিরও বেশি। সে কাজটি করতে গিয়ে নাবালকদের উপরেও এ বার নজর বিজেপির।

লোকসভা ভোটের ফল বেরিয়েছে দেড় মাস হল। দিল্লিতে মুখে মুখে ঘুরছে: ‘কংগ্রেসে চলছে ইস্তফার অভিযান, আর বিজেপিতে নতুন সদস্য অভিযান।’ হারের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিরোধীরা। এই সুযোগে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়ে নিতে চাইছেন। জয়ের রেশ থাকতে থাকতেই আক্রমণাত্মক হতে নামিয়ে দিয়েছেন গোটা দলকে। বিজেপি মুখে দাবি করে, তাদের সদস্য ১১ কোটি। বিশ্বের সবথেকে বড় দল তারা। যদিও সে অঙ্ক নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। কিন্তু এ বারে সদস্যের সংখ্যা ১৭ কোটি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইছে দল। তার জন্য নজর পড়েছে নাবালকদের উপরেও। 

দিল্লিতে সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়ে দলের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছিল, ১৮ বছরের কমবয়সিদের কি বিজেপির সদস্য করা যেতে পারে? উত্তর এসেছিল, আপাতত তাদের ‘প্রাথমিক সদস্য’ হিসেবে দলে শামিল করা যেতে পারে, ‘সক্রিয়’ সদস্য নয়। যুবকদের আরও বেশি করে বিজেপিতে নিয়ে আসার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের যুব মোর্চাকে। বিজেপির যুব মোর্চার জাতীয় সচিব সৌরভ শিকদার বলেন, ‘‘কী করে ১৮ বছরের কমবয়সিদেরও দলে শামিল করা যায়, তা নিয়ে একটি প্রকল্প শীঘ্রই ঘোষণা হবে। রাজনৈতিক ভাবে না হলেও ১৬ বছর বয়স থেকে কী করে কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপির সঙ্গে জোড়া যায়, সে অভিযান চলবেই।’’

লক্ষ্যটি স্পষ্ট— ১৮ বছরে পা দিলেই যাতে যুবকরা বিজেপির সক্রিয় সদস্য হতে পারেন, তার জন্য বছর দুয়েক আগে থেকেই কিশোর মনে বিজেপির ভাবধারা নানা ভাবে পুরে দেওয়া। বিজেপি নেতাদের কথায়, এ ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন ধরেই এগোচ্ছেন। যে কারণে তিনি ফি-বছর পড়ুয়াদের সঙ্গে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠান করেন। ‘এগজাম ওয়ারিয়র্স’ নামে বইও লিখেছেন। গত বছর ‘শতাব্দীর প্রথম ভোটার’দেরও কাছে টানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিজেপি ‘ভবিষ্যতের ভোটার’দেরও আগেভাগেই সঙ্গে রাখতে চাইছে। 

মোদী সরকারের এই মেয়াদে বিজেপি আসলে যত দ্রুত সম্ভব কুড়ি কোটি সদস্যের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে চাইছে। প্রতি বছর যত বেশি নতুন যুবককে দলে নেওয়া যাবে, ততই এই সংখ্যা বাড়বে। যুব মোর্চার প্রধান পুনম মহাজন গত কালই জানিয়েছেন, নতুন সদস্যের ৬০ শতাংশই হবেন যুবকরা। ইতিমধ্যেই কলেজ ক্যাম্পাসে অভিযান তাঁরা শুরু করেছেন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্প করে এক দিনেই পাঁচশোর বেশি সদস্য করেছেন। ছাত্র সংগঠন ‘এবিভিপি’র সঙ্গে বিজেপির প্রত্যক্ষ যোগ কিন্তু নেই। তারা কাউকে বিজেপির সদস্যও করতে পারে না। সেটি শুধু বিজেপির কোনও মোর্চার মাধ্যমেই সম্ভব।  

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।