নিজের দফতরে বসে চন্দ্রযান-২-এর সফল উৎক্ষেপণ দেখলেন, হাততালিও দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সব ছবি এবং তাঁর বার্তা টুইটও করলেন তিনি। অধিবেশন চলাকালীন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তো বলেই ফেললেন, চন্দ্রযান-২-এর সাফল্য মোদীর নেতৃত্বেই। যা নিয়ে সভায় সরব হলেন বিরোধীরা। কংগ্রেস দাবি করল, এই সাফল্য জওহরলাল নেহরুর দূরদর্শিতার ফসল। চন্দ্রযান-২-এর সাফল্যের কৃতিত্ব নিজেদের দিকে টানতে আজ চেষ্টার ত্রুটি করল না দেশের প্রধান শাসক এবং বিরোধী দলের কেউই!

নিজের দফতরে একটি চেয়ারের পিছনে দু’হাত রেখে দাঁড়িয়ে চন্দ্রযান২-এর উৎক্ষেপণ দেখছেন এবং হাততালি দিচ্ছেন— এমন দু’টি ছবি আজ টুইট করেছেন মোদী। টুইটারে পোস্ট করা অডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমাদের বিজ্ঞানীরা যাবতীয় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম। সেই আত্মবিশ্বাস রয়েছে। চন্দ্রযান-২ মিশন সফল হবে। এটাই চাঁদের মাটিতে পৌঁছন দেশের প্রথম মহাকাশ যান হবে।’’ চন্দ্রযান-২-এর সাফল্য নিজেদের খাতায় তোলার চেষ্টার কসুর করেনি কেন্দ্রের প্রধান শাসক দল।

উৎক্ষেপণের সাফল্যের কথা লোকসভায় জানান স্পিকার এবং রাজ্যসভায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নায়ডু। ওম বিড়লা বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানানোর পর বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর জন্যই এই সাফল্য।’’ হইহই করে ওঠেন বিরোধীরা। তাঁদের প্রশ্ন, এই সাফল্যের পিছনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কোথায়! সভায় উপস্থিত সনিয়া গাঁধীকেও মুচকি হাসতে দেখা যায়। পরে বাইরে বেরিয়ে এক বিরোধী সাংসদের কটাক্ষ, ‘‘মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই চন্দ্রযানটি চালিয়ে নিয়ে গেলেন।’’

পরে সাফল্যের দাবিতে ভাগ বসাতে কংগ্রেসের টুইট, ‘‘দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ১৯৬২ সালে ইনকসপার (যা পরবর্তী সময় ইসরো হয়েছে) গঠন করেন মহাকাশ গবেষণার জন্য। সেই দূরদর্শিতা স্মরণের এটা ভাল সময়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ২০০৮ সালে চন্দ্রযান-২-এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন।’’ ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার জনক বলে পরিচিত ডঃ বিক্রম সারাভাইয়ের সঙ্গে নেহরুর একটি ছবিও কংগ্রেস টুইট করেছে। চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণ নিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র বলেন, ‘‘এটা প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে গর্বের মুহূর্ত... একে রাজনীতির আঙিনায় টেনে নেওয়া অনুচিত।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।