ভোপালের বেসরকারি ছাত্রীনিবাসে যৌন কেলেঙ্কারিতে এ বার প্রকাশ্যে এলেন চতুর্থ মহিলা। তাঁর অভিযোগ, একটি ঘরে আটকে রেখে পর্নোগ্রাফি দেখতে বাধ্য করা হয়েছিল। ছাত্রীনিবাসের ডিরেক্টর অশ্বিনী শর্মা তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন টানা ছ’মাস।মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বছর তেইশের ওই মহিলা ইনদওর পুলিশের কাছে নিজের বয়ানও দিয়েছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।ওই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা।

পরপর দু’দিন দুই মহিলা আলাদা ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন, ভোপালের অবোধপুরির ক্রিস্টাল আইডিয়াল সিটির ওই হস্টেলে তাঁদের উপর অকথ্য যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। আলাদা আলাদা ঘরে বন্দি করে রেখে চলত নারকীয় অত্যাচার। অভিযোগ পেয়েই গত বুধবার ওই ছাত্রীনিবাসের ডিরেক্টর অশ্বিনী শর্মাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার পর আরও এক মহিলা একই অভিযোগ করেন। এবার চতুর্থ মহিলাও অভিযোগ দায়ের করলেন।

পুলিশের কাছে ওই মহিলার বয়ান, ‘‘আমাকে জোর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে পর্নোগ্রাফি দেখতে বাধ্য করা হত। তার সঙ্গে চলত ধর্ষণ। এই ভাবে টানা ছ’মাস আমার উপর নির্যাতন চালানো হয়। আর দাবি মেনে না নিলেই অকথ্য নির্যাতন চালানো হত আমার উপর।’’ স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়ে সেটি ভোপালের ওই ঘটনার তদন্তকারী অফিসারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ওই মহিলা।

আরও পড়ুন: মুজফফরপুর ধর্ষণ-কাণ্ড: জেলে ‘হান্টারওয়ালে আঙ্কলে’র থেকে মিলল মন্ত্রীর নম্বর!

অভিযোগ পেয়েই নতুন করে এই ঘটনারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোপালের পদস্থ পুলিশ কর্তা ধর্মেন্দ্র চৌধরি জানিয়েছেন, ইনদওর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করে তা ভোপালে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধর্ষণ, জোর করে আটকে রাখা, দলিতদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। অন্য দিকে ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের সব হস্টেল প্রতি মাসে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

আরও পডু়ন: এ বার মোদীর তোপে মমতা, ‘গণতন্ত্র আর জনগণে আস্থা হারিয়েছেন উনি’

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। কংগ্রেসের অভিযোগ, ধৃত ওই হস্টেলের ডিরেক্টর অশ্বিনী শর্মা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান-সহ রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ। এমনকি কংগ্রেসের মুখপাত্র শোভা ওঝা একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, আরএসএস-এর একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের পাশেই রয়েছেন অশ্বিনী। মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁতেও দেখা গিয়েছে তাকে। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কমল নাথ মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখে ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন।

বিজেপির অবশ্য দাবি, একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে অযথা রাজনীতি করছে কংগ্রেস। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র রাহুল কোঠারি অশ্বিনীর বিজেপি সংস্পর্শ অস্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। তার পরও অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতে রাজনীতির রং চড়াচ্ছে কংগ্রেস।