কাফে কফি ডে-এর কর্ণধার ভি জি সিদ্ধার্থের আত্মঘাতী হওয়ার জন্য কর্নাটক কংগ্রেস দায়ী করল আয়কর দফতরের দায়িত্বজ্ঞানহীন অফিসারদের। বুধবার কর্নাটক কংগ্রেসের তরফে করা একটি টুইটে বলা হয়েছে, ‘‘ভি জি সিদ্ধার্থের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আয়কর দফতরের কর্তাদের লাগাতার হেনস্থার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। যে ভাবে আয়কর হানাদারির জুজু দেখানোর ঘটনা বাড়ছে উত্তরোত্তর, তাতে শিল্প ও ব্যবসার অবনমন ঘটছে। যার প্রভাব পড়ছে অর্থনৈতিক বিকাশের উপর।’’ সিদ্ধার্থ প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ও কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণের জামাই।

কর্নাটক কংগ্রেসের তরফে করা টুইটে এও জানানো হয়েছে, পূর্বতন ইউপিএ জমানায় সিদ্ধার্থের সংস্থার ব্যবসা বেড়ে উঠলেও, কেন্দ্রে এনডিএ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেই নানা কৌশলে ওই ব্যবসার উপর নজরদারি শুরু করে। শুরু হয় নানা ধরনের অত্যাচার। যার অন্যতম আয়কর হানাদারি ও নানা রকমের হেনস্থা। তার ফলে, সংস্থা গুটিয়ে ফেলতে হয় সিদ্ধার্থকে। বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েন।

প্রায় দু’দিন নিখোঁজ থাকার পরে বুধবার সকালেই উদ্ধার হয় কাফে কফি ডে-এর কর্ণধার ভি জি সিদ্ধার্থর দেহ। একদল মৎস্যজীবী তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেন নেত্রাবতী নদীর পার থেকে। শেষ বার তাঁকে ওই নদীর উপরে সেতুতে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে ওয়েন্‌লক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তাঁর দেহ শনাক্ত করা হয় পরিবারের তরফে।

আরও পড়ুন- নেত্রাবতীর পার থেকে উদ্ধার কাফে কফি ডে কর্ণধারের নিথর দেহ​

আরও পড়ুন- ক্ষমতায় ফিরেই টিপুর জন্মজয়ন্তী পালন বাতিল করল ইয়েদুরাপ্পা সরকার​

রহস্যজনক ভাবে সিদ্ধার্থের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নানা জল্পনা শুরু হয়। সেই জল্পনা আরও জটিল হয়ে ওঠে  নিজের সংস্থার কর্মীদের লেখা সিদ্ধার্থের একটি চিঠি সংবাদ সংস্থা এএনআই প্রকাশ্যে আনায়। সংস্থার ডিরেক্টরদের বোর্ডকে লেখা সেই চিঠিতে সিদ্ধার্থ তেমন ভাবে লাভ না হওয়ার জন্য সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘‘যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও, আমার সংস্থাকে লাভের মুখ দেখাতে পারছি না। আমার দায়িত্বেই প্রত্যেকটি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। তাই আইনের কাছে একমাত্র আমিই জবাবদিহি করতে বাধ্য।’’

ওই চিঠির সূত্রে স্পষ্ট, ব্যবসায় তেমন ভাবে লাভ হচ্ছিল না সিদ্ধার্থের। প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালে সিদ্ধার্থের সংস্থায় হানা দেয় আয়কর বিভাগ। চলতি বছরেই মাইন্ডট্রি নামক সংস্থায় থাকা তাঁর ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রিও করে দেন তিনি।

সিদ্ধার্থের আত্মঘাতী হওয়ার জন্য আয়কর কর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচার, আচরণকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি। তাঁর টুইটে মণীশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘এত কিছুর পরেও কেন আয়কর দফতরের সেই প্রাক্তন ডিজির নাম প্রকাশ্যে আসছে না, যিনি নানা ভাবে হেনস্থা করেছিলেন সিদ্ধার্থকে?’’

সিদ্ধার্থকে হেনস্থা করার অভিযোগ অবশ্য মঙ্গলবারই অস্বীকার করেছে আয়কর বিভাগ। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাইন্ডট্রি-র শেয়ার বেচে সিদ্ধার্থ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঘরে তুলেছিলেন। তাতে তাঁর আয়কর দেওয়ার কথা ছিল ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু সিদ্ধার্থ আয়কর দিয়েছিলেন মাত্র ৪৬ কোটি টাকা।

সোমবার রাতে বেঙ্গালুর থেকে সকলেশপুরের দিকে রওনা হয়েছিলেন সিদ্ধার্থ। চালকের দাবি, মাঝপথে সিদ্ধার্থ নির্দেশ দেন ম্যাঙ্গালুরুর দিকে যেতে। এর পর ম্যাঙ্গালুরুর কাছে নেত্রাবতী নদীর সেতুর উপর গাড়ি থামাতে বলেন। ‘একটু হেঁটে আসছি’ বলে গাড়ি থেকে নেমে যান তিনি। আর ফেরেননি। প্রায় দু’ঘণ্টা তাঁর জন্য অপেক্ষা করে পুলিশে খবর দেন গাড়িচালক বাসবরাজ পাতিল।

তার আগে তিনি সিদ্ধার্থকে ফোনও করেছিলেন। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। এরপর তাঁর ছেলে ঈশানকে তিনি বিষয়টি জানান। তিনিও ফোনে বাবাকে পাননি। তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

তল্লাশি শুরু হতে পুলিশকে স্থানীয় এক মৎস্যজীবী জানান, তিনি এক জনকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর কাছে পৌঁছতে পারেননি। এরপরে ক্রমেই দৃঢ় হতে থাকে তাঁর আত্মহত্যার আশঙ্কা। সোমবার রাত থেকে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চলতে থাকে নেত্রাবতী নদী ও তার সংলগ্ন এলাকা। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পরে বুধবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হল।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যবসায়ে আর্থিক মন্দার জেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন ভি জি সিদ্ধার্থ।