• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাফালের ফাইল চুরি নিয়ে মুখে কুলুপ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

nirmala sitaraman
নির্মলা সীতারমন।—ফাইল চিত্র।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে রাফাল চুক্তির ফাইল ‘চুরি গিয়েছে’। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, ইতিহাসে মোদী সরকারের মতো মজবুত সরকার আর আসেনি।

কিন্তু কী ভাবে ফাইল চুরি গেল, তা নিয়ে নির্মলা সীতারামন নীরব। 

রাহুল গাঁধী থেকে মায়াবতী প্রশ্ন তুলছেন, ফাইল চুরির গল্প আসলে রাফাল-দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, সব নিয়ম মেনেই রাফাল কেনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও সিএজি-কেও সব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রথম যুদ্ধবিমান ভারতে আসছে সেপ্টেম্বরেই।

কিন্তু কী ভাবে তাঁর সাউথ ব্লকের মন্ত্রক থেকে ফাইল খোয়া গেল, তা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নীরব। বুধবার আচমকা অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, রাফাল ফাইল চুরি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী তখন কর্নাটকে, বিজেপির প্রচারে। বিরোধীরা মুচকি হেসে প্রশ্ন তুলছেন, নির্মলা নিজে ‘চুরির’ খবরটা জানতেন তো? কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলছেন, ‘‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে ফাইলের গতিবিধি জানার ব্যবস্থা থাকে। নির্মলা কি জানতে পারলেন যে, ফাইল চুরি গিয়েছে?’’ প্রশ্নটা অযৌক্তিক নয়। রাফাল চুক্তিতে কেন প্রধানমন্ত্রীর দফতর নাক গলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আমলারাই আপত্তি তুলেছিলেন। সেই ফাইলের অংশ ফেব্রুয়ারিতেই সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। তা নিয়ে সংসদে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবও দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কিন্তু তখনও বলেননি ফাইল চুরি গিয়েছে বা তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। সুরজেওয়ালার প্রশ্ন, ‘‘ফাইল চুরি গিয়েছে জেনেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংসদকে জানাননি কেন? দোষীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না!’’

বালাকোট অভিযানের পরেও প্রশ্ন ওঠে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজে কি জানতেন বায়ুসেনার গতিবিধির কথা? কারণ বিজেপিরই সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেছিলেন, সরকারের মাত্র সাত জন এই অভিযানের কথা জানতেন। সেই তালিকায় নির্মলা ছিলেন না। বস্তুত, পরেও তা নিয়ে মুখ খোলেননি নির্মলা। নিহত জঙ্গির সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে বলেছিলেন, বিদেশসচিব যে সংখ্যা বলেছেন, সেটাই ঠিক। কিন্তু বাস্তবে বিদেশসচিব কোনও সংখ্যাই বলেননি। 

কংগ্রেস থেকে এনসিপি-র দাবি, ফাইল চুরি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। আজ নির্মলার বাসভবনের সামনে যুব কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখায়। কিন্তু মন্ত্রী চুপ। 

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ‘ফ্রি থিঙ্কার’ নামে একটি ছাত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন নির্মলা। পরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-কে হারিয়ে বাম সংগঠন ছাত্র সংসদের নির্বাচনে জিতলে, তিনিই তাঁদের ‘ভারত-বিরোধী’ তকমা দিয়েছেন। 

নির্মলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম কোনও মহিলাকে ওই মন্ত্রকে আনার কৃতিত্ব নিয়েছিল মোদী সরকার তথা বিজেপি। কিন্তু পরে দেখা যায়, ইন্দিরা গাঁধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নিজেই প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সমালোচকেরা বলছেন, এখনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আসলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেরই অধীনে। রাফাল-ফাইল থেকে বালাকোটই তার প্রমাণ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন