• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুলওয়ামার ছায়াই কি স্পষ্ট হচ্ছে বানিহালে

Pulwama
—ফাইল চিত্র।

Advertisement

পুলওয়ামার ধাঁচেই কি ফের হামলার ছক কষা হয়েছিল— প্রশ্ন উঠেছে জম্মু-কাশ্মীরের বানিহালের গাড়ি-বিস্ফোরণ নিয়ে। কারণ, রবিবার যে সন্দেহভাজনকে ধরা হয়েছিল, আজ সেই ওয়াইস আমিন দাবি করল, ‘‘ফোনে আমাকে বলা হয়েছিল, কনভয় উড়িয়ে দিতে। আমার কাজ ছিল গাড়ি চালানো ও বোতাম টেপা।’’ 

প্রাথমিক ভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগ উড়িয়ে দিয়েছিল সেনা। কিন্তু একের পর এক তথ্যপ্রমাণে এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। সুরক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে। শনিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের বানিহালে জাতীয় সড়কের উপরে জওহর টানেলের কাছে একটি স্যান্ট্রো গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময়ে রাস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি কনভয় যাচ্ছিল। বিস্ফোরণে কনভয়ের একটি গাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হতাহতের কোনও খবর ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, গাড়িতে রাখা রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে জানা যাচ্ছে, গাড়িতে দু’টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ছাড়াও পেট্রল, জেরি ক্যান, জেলাটিন স্টিক, ইউরিয়া ও সালফারের মতো বিস্ফোরক মজুত ছিল। রবিবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র একটি দল ওই বিস্ফোরণস্থল খতিয়ে দেখে। কাশ্মীর পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিংহ জানিয়েছেন, ওই গাড়ির চালক ওয়াইস আমিন দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানের হিজবুল জঙ্গি। ঘটনার দিন শেষ মুহূর্তে গাড়ি ছেড়ে পালায় সে। জ্বলে যাওয়া সাদা রঙের স্যান্ট্রো গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তা থেকেই পরে আমিনের পরিচয় জানা গিয়েছে। সে ওই নোটে এ-ও দাবি করেছিল, পুলওয়ামার ধাঁচে হামলার উদ্দেশ্য ছিল তার। তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, নোটটি আগেই গাড়িতে ছিল, না পরে রেখে দেওয়া হয়েছে।  সে দিন গাড়ি থেকে পালিয়ে বানিহালেই গা ঢাকা দিয়েছিল আমিন। তার খোঁজে বড় মাপের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। রবিবার আমিনকে ধরে সেনা।   

এই মুহূর্তে সব চেয়ে বেশি যা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের, তা হল— বিস্ফোরক-বোঝাই গাড়িটি শনিবার কী ভাবে ওই সেনা কনভয়ে ঢুকে পড়েছিল। এ-ও জানা গিয়েছে, কনভয়ের কয়েকটি গাড়িকে ‘ওভারটেক’ করেছিল আমিনের গাড়ি। তা হলে কি পুলওয়ামা হামলার পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার একই হাল? ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলায় ৪৯ জন সেনা নিহত হন। সে দিনও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সেনা কনভয়ের একটি বাসে ধাক্কা মারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘শনিবারের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি ছাড়া কিছুই নয়। পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকে সেনা কনভয় গেলে সাধারণ গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। সেখানে কী ভাবে স্যান্ট্রোটি কনভয়ের মধ্যে ঢুকল! এটা গাফিলতিই। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন