লাড্ডু নিয়ে তৈরি দু’পক্ষ, প্রস্তুত চিঠির খসড়াও!
শরিক ও দলের শীর্ষ নেতাদের জনে জনে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, সরকার গড়ছেন তাঁরাই। ভোটের ফলের এক দিন আগে বিজেপিতে তাই আগামিকালের প্রস্তুতি তুঙ্গে।
Namo and RAGA

নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গাঁধী।

এক একটি কেকের ওজন সাত কেজি। তাতে আবার লাড্ডু বসানো। 

শরিক ও দলের শীর্ষ নেতাদের জনে জনে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, সরকার গড়ছেন তাঁরাই। ভোটের ফলের এক দিন আগে বিজেপিতে তাই আগামিকালের প্রস্তুতি তুঙ্গে। দফতরে শামিয়ানা পড়েছে। সাজছে সামনের রাস্তাঘাট। জিতলে বিজয় চকেও নাকি বিজয়-মিছিল বেরোতে পারে। ঠিক আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভোটে জেতার মতো হাতে পতাকা নিয়ে। আতসবাজিও তৈরি রেখেছেন চাঁদনি চকের ব্যবসায়ীরা। জ্যৈষ্ঠতেই ফের দীপাবলি হবে। দিল্লির বদলে নাকি বারাণসীতেও শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। শপথের ‘শুভ’ সময়ও স্থির করে ফেলেছেন। আর ভূরি ভূরি লাড্ডুর বরাত গিয়েছে দোকানে দোকানে। মোতিচুর দিয়ে কেকও তৈরি হচ্ছে নজর কাড়তে। 

এ সব দেখে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরাদের ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস কর্মী জগদীশ শর্মা এআইসিসি দফতরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘সব লাড্ডু আমাদের কাছেই আসছে। সকাল সাতটা থেকে কংগ্রেস দফতরের সামনে শুরু হবে যজ্ঞ। লাড্ডু, হালুয়া, পুরী। ভাংড়া নাচও হবে। পুরো ব্যান্ড-পার্টি সকাল থেকেই আকবর রোডের সামনে উৎসব শুরু করবে।’’ বুথফেরত সমীক্ষা মোদীকে যতই এগিয়ে রাখুক না কেন, কংগ্রেসের এখনও বিশ্বাস, এনডিএর শরিকদের নিয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছুঁতে পারবে না বিজেপি। এ সবের ফাঁকে কিছু জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ত্রিশঙ্কু সরকার হচ্ছে। মোদী আর প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না। সরকার গড়তে রাহুল গাঁধীর বড় ভূমিকা থাকবে। 

বুথফেরত সমীক্ষা মেলাতে পারছেন না বিরোধীরা। সকলেরই অঙ্ক, ফলাফল ত্রিশঙ্কুর দিকেই এগোচ্ছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো একটি চিঠির খসড়াও তৈরি। বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হলেও রাষ্ট্রপতি যেন প্রথমেই তাঁকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ না জানান। রাহুল আজও টুইট করে বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘ভুয়ো’ বলেছেন। কংগ্রেস কর্মীদের আবেদন জানিয়েছেন, ‘‘আগামী ২৪ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। সতর্ক থাকুন। ভয় পাবেন না। সত্যের জন্য লড়েছেন। হতাশ হবেন না। কংগ্রেস ও নিজের উপর ভরসা রাখুন। আপনাদের পরিশ্রম বিফলে যাবে না।’’ 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

আজ রাতেও কংগ্রেসের ওয়ার রুমে বিরোধী দলগুলির নেতারা বৈঠকে বসেন আগামিকালের রণকৌশল তৈরি করতে। লক্ষ্য একটাই, কোনও ভাবে এনডিএ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন সর্বশক্তি দিয়ে বিকল্প সরকারের চেষ্টা হবে। কংগ্রেসের ‘ওয়ার-রুম’-এ আজ আহমেদ পটেল, সীতারাম ইয়েচুরি, প্রফুল্ল পটেলরা বৈঠক করেন। ভিডিয়ো কনফারেন্সে কথা হয় চন্দ্রবাবু নায়ডু, শরদ পওয়ারের সঙ্গেও। পওয়ার নবীন পট্টনায়ক, চন্দ্রশেখর রাও, জগন্মোহন রেড্ডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

জগন অবশ্য নিজের তাস খেলেননি। মায়াবতীও স্পষ্ট করেছেন, যে শিবির তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করবেন, তিনি সে দিকে। সব মিলিয়ে বিরোধীরা স্থির করেছে, দু’টি খসড়া তৈরি হোক। সংখ্যা এনডিএ-র প্রতিকূলে হলে দুপুর সাড়ে তিনটেয় রাষ্ট্রপতির কাছে সব বিরোধী দল চিঠি পাঠাবে, তারা এনডিএ-র সঙ্গে নেই। মায়াবতী, চন্দ্রবাবু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো নেতা-নেত্রীদের দিল্লি আসতে বলা হবে। আর রাত সাতটার সময় দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়ে বিরোধী শিবির সরকার গড়ার দাবি পেশ করবে।

হাসছেন বিজেপি নেতারা। রাম মাধব বলেন, ‘‘বিরোধীরা সংখ্যা পেলে তো? মানুষ মোদীর উপরে আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন।’’ অপেক্ষা এক রাতের। মসনদে কে বসবেন?

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত