নরেন্দ্র মোদী সরকারের কোষাগারে অর্থ ছিল না। তাই ১২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের বদলে ৩৬টি যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানালেন নিতিন গডকড়ী। এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গডকড়ীর ব্যাখ্যা, ‘‘সরকারের আর্থিক স্বাচ্ছল্যের উপরে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছিল। কী করে ১০০টা বিমান কেনা যেতে পারে? সেজন্য আমাদের  অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হত। তাই ৩৬টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’

ইউপিএ সরকারের আমলে ফ্রান্স থেকে ১২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য দর কষাকষি চলছিল। সেই চুক্তি হলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল-এরও ‘অফসেট’ সহযোগী হিসেবে বরাত পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোদী সরকার এসে ১২৬টি রাফাল কেনার বদলে মাত্র ৩৬টি যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই চুক্তির অঙ্গ হিসেবে ফরাসি সংস্থা দাসো-র থেকে বরাত পায় অনিল অম্বানীর সংস্থা। তা নিয়েই রাহুল গাঁধী দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

মোদী সরকার বেশি দামে যুদ্ধবিমান কিনেছে বলে রাহুল অভিযোগ তুললেও নরেন্দ্র মোদী, অরুণ জেটলি, নির্মলা সীতারামনেরা দাবি করেছেন, ইউপিএ-র থেকে কম দামে বিমান কেনা হয়েছে। কিন্তু কম দামেই যদি পাওয়া গেল তা হলে ১২৬টি-র বদলে ৩৬টি বিমান কেনা হল কেন? প্রশ্নের জবাবে এতদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলার যুক্তি ছিল, বায়ুসেনার কাছে ৩৬টির বেশি বিমানের পরিকাঠামো ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয় বিষয় ছিল না। যখনই একটি স্কোয়াড্রন বা ১৮টি বিমান কেনা হয়, তার সঙ্গে অন্যান্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন হলে সবসময়েই দুই স্কোয়াড্রন বা ৩৬টি যুদ্ধবিমান কেনা হয়। তার বেশি নয়।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

কিন্তু এ দিন গডকড়ী যুক্তি দিয়েছেন, সবটাই সরকারের আর্থিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করছিল। ৩৬টির বেশি যুদ্ধবিমান কিনতে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হত। তাই সরকারের আর্থিক অবস্থা দেখেই ৩৬টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।