তাঁর এক হুঙ্কারে নাকি কাঁপেন তাবড় নেতা। কিন্তু আজ তাঁর কথাই দলের কেউ গিলতে চাইছেন না। নিহত জঙ্গির সংখ্যা বলে দিয়ে নিজের দলেই এখন ‘একা’ প্রবল ক্ষমতাধর অমিত শাহ। 

বালাকোট অভিযানের পরে কেন্দ্র ও বিজেপির নানা ‘সূত্র’ থেকে আসছিল নিহত জঙ্গির সংখ্যা। প্রথম বার প্রকাশ্যে সেই সংখ্যাটি বলেছেন বিজেপি সভাপতিই। গুজরাতে তাঁর দাবি, আড়াইশোর বেশি জঙ্গি মারা গিয়েছে। কিন্তু সেই সংখ্যা নিয়ে যেমন ধোঁয়াশা, তেমন এর চেয়েও বড় প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। তা হল, সরকারের ‘তথ্য’ অমিত জানলেন কী করে? 

সংখ্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চুপ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী চুপ, সেনাও বলছে গোনাটা তাদের কাজ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আজ অবশ্য অসমের ধুবুড়িতে গিয়ে বলেন, ‘‘এনটিআরও জানিয়েছে, হামলার আগে (জঙ্গি ঘাঁটিতে) তিনশো মোবাইল সক্রিয় ছিল। ওই তিনশো মোবাইল কি গাছেরা ব্যবহার করছিল?’’ কিন্তু নিহতের সংখ্যা স্পষ্ট করেননি রাজনাথও। উল্টে বিরোধীদের তোপ দেগে বলেন, ‘‘আজ নয় কাল নিহতের সংখ্যা খোলসা হবে। বোমা ফেলার পরে পাইলটেরা কি নেমে এক-দুই-তিন করে মৃতদেহ গুনে আসতেন? এ কি তামাশা! এত আগ্রহ থাকলে বিরোধীরা পাকিস্তানে গিয়ে নিহতের সংখ্যা জেনে আসুক।’’ 

ফলে প্রশ্নটা রইলই— সরকারের অংশ না-হয়েও অমিত শাহ কী ভাবে নিহতের সংখ্যা বলছেন! সাংবাদিক বৈঠকে আজ এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সামনে নিয়ে এলেন নতুন যুক্তি— ‘অনুমান’। বললেন, ‘‘তিনি (অমিত) অনুমান থেকে বলে থাকবেন। সংখ্যা এর থেকে বেশিও হতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে আন্দাজে যাব না। যা বলার সরকার বলবে। আসল কথা হল, বড় অভিযান হয়েছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর আমরা সেনা ও বায়ুসেনাকে বিশ্বাস করি।’’ তা হলে কি সভাপতির বক্তব্যকে খোদ বিজেপিই খারিজ করছে? রবিশঙ্কর যা উত্তর দিলেন, তার সঙ্গে প্রশ্নের তেমন সামঞ্জস্য নেই। বললেন, ‘‘দলের সভাপতি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনি একটি হিসেব দিয়েছেন।’’

প্রশ্নটি আজ করা হয় খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকেও। সরাসরি জবাব এড়িয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিদেশসচিব যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটিই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।’’ একই বক্তব্য বিদেশ মন্ত্রকেরও। উপরন্তু নির্মলার মতে, এটি সামরিক অভিযানই নয়। এতে সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংহ বলেন, ‘‘যে বাড়িতে হামলা হয়েছে, তাতে কত জন ছিল তার ভিত্তিতে একটি অনুমান করেছেন সভাপতি। তিনি তো বলছেন না, এটাই ঠিক সংখ্যা।’’ 

বিজেপির এক নেতা মানলেন, সরকার কোনও সংখ্যা বলার আগে দলের পক্ষ থেকে সভাপতি তা বলে ফেলায় বিরোধীরা তাঁদের চেপে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। বায়ুসেনার অভিযানের দিন সরকারের ঘোষণার আগেই মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর মোদী সরকারের তারিফ করে বসেন। অমিত সে জন্য তাঁকে ধমক দিয়েছিলেন। নেতাটির কথায়, ‘‘এ বার খোদ অমিতেরই মুখ থেকে এমন কথা কী করে বেরিয়ে পড়ল, কে জানে?’’ 

এ কে অ্যান্টনি থেকে মায়াবতী— সবাই আজ অমিতকে বিঁধেছেন। জবাব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এমনকি অমিত সদ্য মুম্বইয়ে যে শিবসেনার সঙ্গে জোট ঘোষণা করে আসেন, তারাও আজ মুখপত্রে লিখেছে, ‘সেনা অভিযানের ফল জানার অধিকার আছে নাগরিকদের। এ প্রশ্ন তোলা মানেই সেনার মনোবল নিচু করা নয়।’