শিনা বরা হত্যাকাণ্ডে একসময় সাড়া পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। সেইসময় সর্বত্র আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়। কিন্তু গত এক-দু’বছরে সে ভাবে আলোচনা হয়নি তাঁকে। কিন্তু আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর থেকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর বয়ান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চিদম্বরমের বিরুদ্ধে এগনো গিয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের।

মেয়ে শিনা বরাকে হত্যার অভিযোগে ২০১৫-র অগস্ট থেকে জেল বন্দি ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়। ষড়যন্ত্রে সামিল থাকার অভিযোগে জেলে রয়েছেন তাঁর স্বামীও। তাঁরাই আইএনএক্স মিডিয়ার যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। অর্থমন্ত্রকের অধীনস্থ ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ডের (এফআইপিবি)-র অনুমোদন না নিয়েই, সংস্থার জন্য কোটি কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ আনার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। বিপদ এড়াতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তির সাহায্য নিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী ও পিটার। ছেলের কথা ভেবে চিদম্বরম তাঁদের অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকি চিদম্বরমই আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলার ‘প্রধান ষড়যন্ত্রী’ হতে পারেন বলে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

২০১০ সালে ইউপিএ সরকারের আমলেই প্রথম আইএনএক্স দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। পরে তা ধামাচাপা পড়ে গেলেও, ২০১৪ সালে সরকার বদলের পর নতুন করে গতি পায় তদন্ত। জানা যায়, ২০০৭ সালে চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন এফআইপিবি-র কাছে বিদেশি লগ্নির আবেদন করে আইএনএক্স মিডিয়া। তাতে বিদেশি লগ্নির টাকা সহযোগী সংস্থাগুলিতেও বিনিয়োগের অনুমতি চায় তারা। কয়েক মাস পর আইএনএক্স মিডিয়াকে ৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বিদেশি লগ্নিতে অনুমোদন দিলেও, সহযোগী সংস্থায় ওই টাকা বিনিয়োগে সায় দেয়নি এফআইপিবি। সেই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে, ২০০৭-এর অগস্ট থেকে ২০০৮-এর মে মাসের মধ্যে ৮০০ টাকা দরে শেয়ার বেচে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩০৫ কোটি টাকার বেশি আদায় করে আইএনএক্স মিডিয়া।

আরও পড়ুন: খিদিরপুরের নামী স্কুলে দিদিদের হাতে শিশু ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ, বিক্ষোভ​

এই অনিয়ম নিয়ে ২০০৮ সালে আইএনএক্স মিডিয়াকে নোটিস ধরায় আয়কর দফতর। তখনই কার্তি চিদম্বরমের আইনি ও আর্থিক পরামর্শদাতা সংস্থা অ্যাডভান্টেজ স্ট্র্যাটেজিক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের দ্বারস্থ হন পিটার ইন্দ্রাণীরা। ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিদেশি লগ্নির টাকায় ছাড়পত্র পাইয়ে দেন কার্তি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, ছেলের সংস্থার হয়ে আইএনএক্সকে ওই অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন চিদম্বরম। বিষটি নিয়ে তদন্ত চলাকালীন গত বছর মার্চে মুম্বইয়ের বাইকুল্লা জেলে ইন্দ্রাণী ও কার্তিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন সিবিআই গোয়েন্দারা। সেখানে কার্তি চিদম্বরমকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা মেনে নেন ইন্দ্রাণী। ওই মামলায় রাজসাক্ষী হতেও রাজি হন তিনি।

আরও পড়ুন: জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি কবে?এককাট্টা বিরোধীদের তোপের মুখে মেয়র​

পি চিদম্বরম এবং কার্তি অবশ্য শুরু থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে, ইচ্ছাকৃত ভাবে বিজেপি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ব্যাপারে কংগ্রেসকেও পাশে পেয়েছেন তাঁরা। তবে এর আগে, এয়ারসেল-ম্যাক্সিস দুর্নীতি কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছে কার্তির। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতারও করে সিবিআই। কিন্তু ২৩ দিন পরই জামিন পেয়ে যান তিনি। এর পর অক্টোবর মাসে ভারত, ব্রিটেন এবং স্পেনে তাঁর ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইডি।