এক কাপ চায়ে মজেছিলেন তিনি। তা সে তো আর যে-সে চা নয়। জলপাই চা!

রাষ্ট্রপতি ভবনে পরিবেশন করা হয়েছিল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। চুমুক দিয়েই চমকে গিয়েছিলেন তিনি। এমন স্বাদ, নেতানিয়াহু আর দেরি করেননি প্রস্তাব পাড়তে— ‘‘রেসিপিটা জানাবেন কিন্তু।’’ ইচ্ছে, দেশে ফিরেও জলপাই-চা খাবেন।

অতিথির সাধপূরণ করতে তড়িঘড়ি শুরু হয় খোঁজ। ডেকে পাঠানো হয় চা বানিয়েছিলেন যিনি, তাঁকে। কোন চা, কোত্থেকে এসেছে, কারা বানিয়েছে— শুরু হয় নানা প্রশ্নোত্তর। আর তাতেই যা জানা গেল, সম্পূর্ণ হল একটা বৃত্ত।

ওই বিশেষ চা-টি তৈরি হয়েছে যে জলপাই গাছ থেকে, প্রায় এক দশক আগে সেগুলি রাজস্থানে আনা হয়েছিল ইজরায়েল থেকেই। সেই সময়েও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বসুন্ধরা রাজে। তাঁরই উৎসাহে কিছু বিজ্ঞানী ইজরায়েলে গিয়ে জলপাই গাছের চারাগুলি নিয়ে আসেন এ দেশে। রাজস্থানের কৃষিমন্ত্রী প্রভুলাল সাইনির অবশ্য দাবি, ‘‘গর্বটা কিন্তু আমাদেরই।’’ যে চা খেতে দেওয়া হয়েছিল নেতানিয়াহুকে, সেই চা পাতা এসেছিল বিকানের থেকে। রাজ্য সরকার ও ইজরায়েলের সহযোগীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চা প্রস্তুত করে ‘রাজস্থান অলিভ কালটিভেশন লিমিটেড’। রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ঘটনা তো দু’দেশের বন্ধুত্বের আদর্শ উদাহরণ। ইহুদি দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে জলপাই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। ওদের দেশের প্রতীকেও রয়েছে, জলপাই গাছের দু’টি শাখা। আবার ভারতে জনপ্রিয় পানীয় চা।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘‘ইজরায়েলের সহযোগিতাতেই এ দেশে চাষিরা এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছে। রাজস্থানের মতো ক্ষরাপ্রবণ এলাকায় এই কাজ করা দারুণ ব্যাপার। ইজরায়েলের থেকে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা আশা করছি।’’ ছ’দিনের ভারত সফর নিয়ে একই রকম উচ্ছ্বাস শোনা গিয়েছে নেতানিয়াহুর গলাতেও— ‘‘দু’দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হল, আরও কাছে এলাম আমরা সবাই।’’